আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > উত্তপ্ত রাখাইন: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১

উত্তপ্ত রাখাইন: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১

untitled-1

প্রতিচ্ছবি ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:

মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উগ্রবাদী রোহিঙ্গাদের কয়েকটি দল শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ভোরে রাজ্যটির অন্তত ২৪ টি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে। সেনাঘাঁটিতেও ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছে তারা। এ সময় তাদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য নিহত হয়েছেন।

এএফপির খবরে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাল্টা হামলায় অন্তত ৫৯ জন রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সংঘর্ষ চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ অং হ্লায়িং এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে রাজ্য কাউন্সিলর অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয় শুক্রবার ভোরে প্রায় ১৫০ উগ্রবাদী ২০ পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালানোর পর পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়।

এদিকে, চলতি মাসে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েন করার পর থেকেই ওই এলাকা থেকে প্রাণভয়ে পালাচ্ছেন রোহিঙ্গা মুসলিমরা। চলতি সপ্তাহে কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমারকে বিভক্ত করা নাফ নদীর কাছাকাছি কক্সবাজার এলাকায় ইতোমধ্যেই শরণার্থী শিবিরগুলোতে অতিরিক্ত লোকজনে গাদাগাদি করে থাকছে। সেখানে আরও রোহিঙ্গারা এসে আশ্রয় নিচ্ছে ফলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শুক্রবারও ১৪৬ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নাফ নদী থেকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে ১০ লাখের বেশি মুসলিম রোহিঙ্গার বসবাস। সরকার ওই অঞ্চলে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে এমন অভিযোগে সেখান থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা। ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনী ব্যাপক নিপীড়ন, হত্যা, গণধর্ষণ এবং গ্রামের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছেন রোহিঙ্গারা।

এরইমধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে তাদের নাগরিক অধিকার দেয়ার পথ সুগম করতে মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত রাখাইন প্রদেশের পরামর্শমূলক কমিশন।

এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে রোহিঙ্গা এবং সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী উভয়েই কট্টরপন্থার পথে ধাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। কমিশন মনে করে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট কৌশল ও সময়সীমা ঠিক করতে হবে, যা হবে স্বচ্ছ ও বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আনান কমিশন ৮৮টি সুপারিশ করেছে। সেখানে রাখাইনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, লোকজনের অবাধ চলাচল ও নাগরিকত্ব আইনের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। ধর্ম, বর্ণ কিংবা নাগরিকত্ব নির্বিশেষে রাখাইন রাজ্যের সকল জনগোষ্ঠীকে অবাধে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

দেশটির সেনাবাহিনী রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও সহিংসতা চালাচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে এই কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের সদস্য ঘাসান সালামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ বছর বাংলাদেশ সফর করেছিল।

প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশহীন সম্প্রদায় বলে বর্ণনা করেছে আনান কমিশন। এতে মিয়ানমারকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পরামর্শও দেয়া হয়।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে