আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ইলিপের কিছুই পাইনা রে বাপ, অবদার উপর থাকি

ইলিপের কিছুই পাইনা রে বাপ, অবদার উপর থাকি

সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি গ্রামের প্রৌঢ়া সিরিয়া বেগম

রিংকু কুন্ডু :

‘বাইত পানি উঠছে, অবদার উপর কোন মতন থাকি, ইলিপের কিছুই পাইনার রে বাপ’ ক্ষোভ-দুঃখ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি গ্রামের প্রৌঢ়া সিরিয়া বেগম।

জেলায় দ্বিতীয় দফা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে পুরো ইউনিয়ন। আর এই ইউনিয়নের খোকশাবাড়ি গ্রামে বাস করেন সিরিয়া বেগম। অসুস্থ স্বামী আর ৩ ছেলে-মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার তার। গত ১৫ দিন হলো তার বাড়ি তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। সহায় সম্বলহীন সিরিয়া বেগম কোন রকমে ঝুপড়ি ঘড় তুলে আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধেঁর উপর।

বাইত পানি উঠছে, অবদার উপর থাকি; ইলিপের কিছুই পাইনা রে বাপ!তিনি জানান গত কয়েকদিন হলো বাধেঁর উপর আশ্রয় নিলেও এখন পর্যন্ত কোন ত্রান পাননি। খেয়ে না খেয়ে দিন চলছে তার।

বুধবার সকালে খোকশাবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধেঁ গিয়ে দেখা যায় চুলার উপর হাড়িতে সামান্য চাল দিয়ে ভাত রান্না করছেন তিনি। এই দিয়ে সারাদিন চলবে বলে জানান তিনি।

যমুনা নদীর পানি সামান্য করে কমতে থাকায় সিরাজগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের। এখনো পানিবন্দি রয়েছে জেলার ৫টি উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ বানভাসি মানুষ স্থানীয় বাঁধের উপরসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট, ঔষধ ও ত্রান সামগ্রী এখনও পৌছায় নি অনেক এলাকায়। চরম আর্থিক সংকটে তারা মানবেতর জীবন যাবন করছে।সিরাজগঞ্জ

বিশেষ করে যমুনা নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের দূর্ভোগ চরমে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনো খাবারের সংকট।

তবে সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জেলার ১০৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৭ হাজার ৫০৫ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে ৭২০ মেট্রিকটন চাল ও ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইমাম হাসান জানান, যমুনার পানি সামান্য করে কমলেও বুধবার সকালে যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমার ৫৩ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সিরাজগঞ্জের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বিভিন্ন স্থান এখনও হুমকির সম্মূখীন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত জেলার ৫১টি ইউনিয়নের ৩৯১টি গ্রামের ৯৬ হাজার ৩৯৪টি পরিবারের ৪ লাখ ১১ হাজার ৫৫৬ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে ৫ হাজার ৫শ ৪৮ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৩৪ হাজার ৫৩টি আংশিক ঘরবাড়ি। ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও ৩০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

আর কে/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে