আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > নায়করাজের প্রয়াণে বাকরুদ্ধ নায়িকারা

নায়করাজের প্রয়াণে বাকরুদ্ধ নায়িকারা

নায়করাজের প্রয়াণে বাকরুদ্ধ নায়িকারা

আহমেদ এফ রুমী :

নায়করাজ রাজ্জাককে হারানোর শোকে মুহ্যমান পুরো জাতি। দেশসেরা এ চলচ্চিত্র অভিনেতাকে হারিয়ে গোটা জাতির মতোই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সেকালের জনপ্রিয় চার চিত্রনায়িকা কবরী-শাবানা-রোজিনা-ববিতা। তাদের মতে, রাজ্জাকের মৃত্যুতে একজন গুণী অভিনেতা-অভিভাবকrazzak-kobori-চলচ্চিত্রপ্রেমিককে হারিয়েছে জাতি।

সেকালের বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি রাজ্জাক-কবরী। একসঙ্গে জুটি বেঁধে অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন তারা। রাজ্জাককে শেষবারের মতো দেখতে এফডিসিতে এসেছিলেন কবরী সারোয়ার। সেখানে লাশবাহী গাড়িতে রাজ্জাকের মৃতদেহ দেখামাত্র কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

শোকে মুহ্যমান কবরী বলেন, ‘আমার নায়ক রাজ্জাক আর নেই। খবরটা শুনে মনে হচ্ছে শরীরটা অবশ হয়ে গেছে। একটা সময় তার সঙ্গেই দিনগুলো কেটে যেত। কতদিন দেখা হয় না তার সঙ্গে। কিন্তু এভাবে দেখা করতে ছুটে যেতে হবে ভাবতেও পারছি না।’

razzak-shabana‘মধু মিলন’, ‘অবুঝ মন’, ‘সখী তুমি কার’ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের সেকালের জনপ্রিয় নায়িকা শাবানা।

এক সময়ের সহ-অভিনেতা রাজ্জাকের মৃত্যু সংবাদ শুনে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। শাবানা বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে বেড়ানোর-আড্ডা দেয়ার কত প্ল্যান করেছিলাম, তা আর হলো না।’

শাবানা আরো বলেন, ‘রাজ্জাক একজন গুণী অভিনেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন আপদমস্তক চলচ্চিত্রের একজন মানুষ। চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে তিনি ভাবতেন। আমরা একজন চলচ্চিত্রপ্রেমিককে হারালাম।’razzak-rozina

রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নায়িকা রোজিনাও। এই জুটির ছবিও কম জনপ্রিয় হয়নি। মৃত্যুর পর রাজ্জাককে শেষ দেখা দেখতে শহীদ মিনারে গিয়েছিলেন তিনি। হাজারো মানুষের ভিড়ের মাঝেও নিজেকে বড্ড বেশি একাকী বোধ করছিলেন তিনি।

অশ্রিসিক্ত কণ্ঠে রোজিনা বলেন, ‘রাজ্জাক ভাইয়ের মৃত্যুর অনেক গুজব ছড়িয়েছে আগে। তাই বিশ্বাসই হচ্ছিল না তিনি নেই। এটা মেনে নেয়া কষ্টের যে আমাদের অভিভাবক চলে গেছেন। তিনি ছিলেন ঢাকাই ছবির বটগাছ। তার বিকল্প কেউ হবে না।’

বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের কমপক্ষে ৪০টি ছবি উপহার দিয়েছেন রাজ্জাক-ববিতা জুটি। রাজ্জাককে দেখতে এফডিসিতে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে গেছেন ববিতা। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে ববিতা বলেন, ‘কিছুদিন আগেও রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলো, মজা হলো। আর আজ তিনি নেই। কী অদ্ভুত মানুষের জীবন।’।

razzak-bobitaববিতা বলেন, ‘এই মুহূর্তে রাজ্জাক ভাইয়ের স্ত্রীর পাশে আমাদের থাকা উচিত। সবাইকে বলব, আমার ভাই, আমার নায়ক, রাজ্জাকের জন্য দোয়া করবেন। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত দান করেন।’

মঙ্গলবার সকালে নায়করাজের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশননে (এফডিসি)। সেখানে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন বাংলা চলচ্চিত্রের সকল অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীরা।

এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গুলশানের আজাদ মসজিদে আসরের নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। তবে রাজ্জাকের মেঝো ছেলে বাপ্পী দেশে না থাকায় দাফন করা হয়নি। বুধবার সকালে পরিবারের সবার উপস্থিতিতে বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে দেশসেরা এ নায়ককে।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ নায়করাজ রাজ্জাক। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ-নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি।

মৃত্যুকালে রাজ্জাকের বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু-পরিজন, হাজারো ভক্তসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে