আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > নায়করাজকে শেষ শ্রদ্ধা: শহীদ মিনারে জনতার ঢল

নায়করাজকে শেষ শ্রদ্ধা: শহীদ মিনারে জনতার ঢল

নায়করাজকে শেষ শ্রদ্ধা: শহীদ মিনারে জনতার ঢল

আহমেদ এফ রুমী:

হাজারো ভক্ত, পরিবার-পরিজন, চলচ্চিত্রে জীবনের জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ সহশিল্পীসহ অগণিত মানুষকে কাঁদিয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। মারা গেছেন নায়করাজ, আর কোনোদিন দেখা যাবে না তাকে। তবে তিনি থাকবেন আমাদের মাঝেই, থাকবেন তাঁর কাজের মাধ্যমে। তাঁর স্মৃতিই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে আজীবন।

চলচ্চিত্র জীবনে রাজ্জাক উপহার দিয়েছেন ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘আবির্ভাব’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ওরা এগারো জন’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’, ‘পিচ ঢালা পথ’সহ তিন শতাধিক জনপ্রিয় বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্র। শুধু ক্যামেরার সামনেই নয়, ক্যামেরার পেছনেও রাজ্জাক ছিলেন অনবদ্য। ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছিলেন তিনি।21015537_2014261818808503_2029518146_n

বাংলা চলচ্চিত্রের এই অন্যতম অভিভাবককে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো সিনেমা পাড়া। রাজ্জাকের এই চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি কেউই। কেঁদেছেন সেকাল থেকে একালের সব অভিনয়শিল্পীরা।

তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকা জায়েদ খান, মাহিয়া মাহী, পরী মনি, শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, শাবনূর থেকে শুরু করে সেকালের নায়ক-নায়িকা আলমগীর, ববিতা, কবরী, রোজিনারাও বাদ যাননি। চোখের জলে নায়করাজকে বিদায় দিয়েছেন তাঁর সহশিল্পীরা।

নায়করাজকে শেষ বিদায়ের সব কাজকর্ম নিজে তদারকি করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও চিত্রনায়ক জায়েদ খান। তিনি বলেন, ‘নায়করাজের মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের সাম্রাজ্য রাজাহীন হয়ে পড়েছে।’

21039719_2014259115475440_1162301917_nকান্না জড়িত কণ্ঠে রাজ্জাকের সমসাময়িক কালের অভিনেতা আলমগীর বলেন, ‘আমরা রাজ্জাক ভাইকে হারানোর প্রতিক্রিয়া জানানোর অবস্থায় নেই। বাবা মারা গেলে ছেলে কি তার প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে? রাজ্জাক ভাই ছিলেন আমাদের বাবার মতো। তাই তার মৃত্যু নিয়ে কিছু বলার মতো মানসিকতা আমাদের নেই। আপনারা সবাই রাজ্জাক ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম খল-অভিনেতা মিশা সওদাগর বলেন, ‘রাজ্জাক ভাই আমাদের সবার প্রিয়পাত্র ছিলেন। ছোটবড় সবাইকেই তিনি সমানভাবে ভালোবাসতেন।’

আরেক খল-অভিনেতা আহমেদ শরীফ খান বলেন, ‘বনানীতে তাকে দাফন করা হোক এটাই চাইতেন রাজ্জাক। তিনি নিজেই তাঁর কবরের জায়গা ঠিক করে রেখে গেছে। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সেখানেই আমরা তাকে দাফন করবো।’

এফডিসিতে সম্পন্ন কিংবদন্তী এই অভিনেতার প্রথম জানাযা। সেখানে শোক শ্রদ্ধায় নায়করাজকে স্মরণ করেন চলচ্চিত্রাঙ্গণের অভিনেতা-পরিচালকসহ সব কলাকুশলীরা। বাংলা চলচ্চিত্রকে তিনি যা দিয়ে গেছেন এই ঋণ শোধরাবার নয় বলে মন্তব্য করেন সবাই।

21013707_1935066396707005_135245401_nচলচ্চিত্রাঙ্গণের সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয় বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী নায়করাজ রাজ্জাকের মরদেহ। সেখানে ফুলেল শুভেচ্ছা ও চোখের জলে চলচ্চিত্রের এই প্রাণপুরুষকে বিদায় জানান হাজারও মানুষ।

শেষবারের মতো নায়করাজকে দেখতে শহীদ মিনারে গিয়েছিলেন সেইসময়ের চিত্রনায়িকা রোজিনা। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘রাজ্জাক ভাইকে হারিয়ে আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম। ইন্ডাস্ট্রির এ অভাব পূরণ হবার নয়। তিনি ইন্ডাস্ট্রিকে যা দিয়েছেন, সেসব বলে শেষ করা যাবে না। আপনারা রাজ্জাক ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

এর আগে সোমবার রাতে নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুর পর তাকে দেখতে ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা ববিতা। তিনি জানিয়েছেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গণে রাজ্জাক ভাই একাধারে দার্শনিক ও অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আজকের সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র তাঁর হাত ধরেই এসেছে। সবাই তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করবেন।’

চিত্রনায়িকা শাবনূর বলেছেন, ‘দুই বছর আগেও তাঁর জন্মদিনে আমরা অনেক মজা করেছি। বিশ্বাস করতে পারছি না রাজ্জাক আংকেল নেই। আমি চলচ্চিত্রে অনিয়মিত হওয়ার সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছিলেন তিনি।’

উল্লেখ্য, সোমবার হৃদরোগ-নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ নায়করাজ রাজ্জাক।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি পাঁচ সন্তানসহ, অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব, ভক্ত, অনুসারী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এ আর / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে