আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > বিএনপিকে আবারো সন্ত্রাসী সংগঠন বললো কানাডার আদালত

বিএনপিকে আবারো সন্ত্রাসী সংগঠন বললো কানাডার আদালত

২৪ মে, ২০১৭

federal_court_canada

 

প্রতিচ্ছবি ডেস্ক:

কানাডার ফেডারেল কোর্ট আবারো বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছে। ফেডারেল কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দেওয়ার আবেদনও বিচারক নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে বিএনপির ব্যাপারে কানাডার ফেডারেল কোর্টের দুই দুইজন বিচারকের  মন্তব্যের বিরুদ্ধে  উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও থাকছে না।

কানাডার বাংলা অনলাইন পত্রিকা খবরটি প্রকাশ করেছে।

গত ১২ মে দেওয়া ফেডারেল কোর্টের বিচারকের এই রায় মঙ্গলবার লিখিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এর একটি কপি নতুনদেশ ডটকমের হাতে আছে বলেও দাবি করেছে পত্রিকাটি।

পত্রিকাটি জানিয়েছে আদালতের নথি থেকে জানা যায়, জাতীয়তাবাদী যুবদল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়া একজন নেতার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন সংক্রান্ত জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারক জে ফদারগিল এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লিখিত রায়ে তার নাম প্রকাশ না করে ‘এস এ’ আদ্যক্ষরে বর্ণনা করতে নির্দেশ দেন। ‘কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন’- এই তথ্য প্রকাশ পেলে বাংলাদেশে তার জীবন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে বলে উল্লেখ করে তিনি আদালতের কাছে তার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানালে আদালত তা গ্রহন করেন।

এর আগে বিএনপির সহযোগি সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত  জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদনে ফেডারেল কোর্টের বিচারক  জাস্টিস ব্রাউন বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এবার একই কোর্টের আরেক বিচারক একই মন্তব্য করলেন।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ‘এস এ’ আদ্যক্ষরের ওই নেতা ২০০৪ সালে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র  যুব শাখা জাতীয়তাবাদী যুবদলে যোগ দেয়। ২০১২ সালে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে তিনি কানাডায় এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে ইমিগ্রেশন ডিভিশন তার আবেদনের শুনানি করে ওই দিনই সিদ্ধান্ত জানায়।

‘এস এ’ নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে দাবি করেছেন উল্লেখ করে ইমিগ্রেশন বিভাগ তাকে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করে। ইমিগ্রেশন  বিভাগের সিদ্ধান্তে বলা হয়, বিএনপি সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত আছে, সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিলো, সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হতে পারে’- এটা বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। কাজেই বিএনপির সদস্য হিসেবে  ‘এস এ’ ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্ট এর ৩৪ (১)(এফ) ধারা মোতাবেক  কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য।

ইমিগ্রেশন ডিভিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেডারেল কোর্টে  জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন করেন ‘এস এ’। ফেডারেল কোর্টের বিচারক জে, ফদারগিল  আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি করে দেন। একই সঙ্গে ফেডারেল কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগের আবেদনটিও তিনি নাকচ করে দেন।

রায়ের নথিতে বলা হয়েছে, আদালতের বিবেচ্য বিষয় ছিলো- কানাডার ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্ট এর ৩৪(১)(এফ) ধারা মোতাবেক ‘এস এ’কে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য বলে দেওয়া ইমিগ্রেশন ডিভিশনের সিদ্ধান্ত যথাযথ কি না এবং আবেদনকারীকে আপিলের সুযোগ দিতে  আবেদনকারীর উপস্থাপিত তিনটি প্রশ্ন  সত্যায়িত করা হবে কি না ।

রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারক বলেন, ইমিগ্রেশন বিভাগের পর্যালোচনায় কোনো ভুল খুঁজে পাইনি। কানাডার আইনে সন্ত্রাসের বিস্তৃত যে সংগা দেওয়া আছে তার বিবেচনায়, বিএনপির হরতাল ডাকার উদ্দেশ্য এবং ইচ্ছা, হরতালে যে সন্ত্রাস এবং স্বাভাবিক জীবনের বিঘ্ন ঘটেছে এবং এই কাজের(হরতালের)  ফলে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে বিএনপির সচেতনতা বিবেচনায় নিয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগ যুক্তিসঙ্গতভাবেই উপসংহারে পৌঁছেছেন যে, বিএনপি একটি সংগঠন, যে দল সন্ত্রাসে লিপ্ত ছিলো,আছে বা সন্ত্রাসে লিপ্ত হবে।

আদালত বলেন, ইমিগ্রেশন ডিভিশন দীর্ঘ দালিলিক তথ্যপ্রমানের ভিত্তিতে উপসংহারে পৌচেঁছেন। তারা অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল,হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং দ্যা গার্ডিয়ান পত্রিকা থেকে তথ্য উপাত্ত নিয়েছেন। এগুলোর গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে কোনো মহলেই কোনো বিতর্ক হয়নি। ইমিগ্রেশন বিভাগ উপসংহার টেনেছেন,’ তাদের(বিএনপির)  কাজের(হরতালের)  ফলে কি ঘটছে বা ঘটতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে বিএনপি যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলো, সচেতন ছিলো। তাদেরএই পদক্ষেপের  ফলে চরম সন্ত্রাস, নির্বিচারে মানুষ হত্যা এবং ভয়াবহ ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে।। ইমিগ্রেশন বিভাগ তাদের পর্যালোচনায় নিশ্চিত হয়েছে যে, বিএনপি  এইসব সন্ত্রাসের নিন্দা করেনি এবং সেটি না করে তারা সন্ত্রাসকে গ্রহন করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে