আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > শিল্প-সাহিত্য > নজরুল ও সময়-বাস্তবতা

নজরুল ও সময়-বাস্তবতা

‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’- এই গানটা এখন বাঙালি মুসলিম এর মনে ঈদের বারতা নিয়ে আসে। নিয়ে আসে খুশীর পয়গাম। উনি নজরুল, উনার মতন করে কেউ বুঝেনি বাঙালী মুসলমানের মন। উনি বুঝেছেন এবং তা শব্দে শব্দে সাজিয়ে দিয়ে গেছেন। আমরা এই এত এত বছর পরেও উনার সাজানো সেই শব্দমালা আমাদের ঈদের খুশীর সাথে মিলিয়ে আনন্দের বান নামাই।
18670760_10211713873355030_3976952917215634627_n
নজরুল গজল লিখেছেন, শ্যামা সংগীত লিখেছেন। দুনিয়াতে আর এমন কোন কবি আছে কিনা আমার জানা নেই যিনি একই সাথে একটা ভাষায় প্রধান দুই ধর্মের সবচেয়ে বেশি ভক্তিমূলক গান লিখেছেন। দুই ধর্মের লোকেরাই আজ এত এত বছর পরেও উনার লেখা গানেই নিজেদের স্রষ্টার গুণগান গেয়ে যাচ্ছেন।
‘যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যা তারায় আমার খবর পুছবে।
বুঝবে সেদিন বুঝবে…’
উনি যেদিন থেকে শব্দে শব্দে মালা গাঁথা ভুলে গেলেন সেদিন থেকে আমরা বুঝছি। উনার দেখানো পথে আজও আমরা সাম্প্রদায়িকতার উরধে উঠে সাহিত্য রচনায়, জাতিকে পথ দেখানোয় এগুতে পারিনি।
খুব মনে হয় এই সময়ে আমাদের বাংলায় আর একজন কাউকে দরকার। যিনি এমন করেই ভালোবাসার বীজ বুনে দেবেন দুই প্রধান ধর্মের অনুসারীদের মাঝে। ধর্মীয় কারণে ঘটা হানাহানি থেকে আমাদের জাতি, আমাদের দুনিয়া রেহাই পাবে।
‘মিথ্যা শুনিনি ভাই, ‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।’
এই সত্যটুকু সব সত্যের চেয়ে বড় সত্য। উনি বুঝেছিলেন, আমাদের বোঝাতে চেয়েছিলেন। আমরা কতটুকু বুঝতে পেরেছি সেটা পরের আলোচনা।
লেখক: মোহাম্মদ আনোয়ার, এডমিন, ফেসবুক গ্রুপ ‘পেন্সিল’
আঁকা-ছবি: ফারিয়া টিনা, সদস্য, ফেসবুক গ্রুপ ‘পেন্সিল’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে