আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খুলনা > সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে

সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে

সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে

প্রতিচ্ছবি খুলনা প্রতিনিধি:

সরকার দেশের জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে সুন্দরবন রক্ষার যেসব অঙ্গীকার করেছে, তা রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে। সুন্দরবনে যে ক্ষতিকর সকল প্রকার স্থাপনা, ব্যবসা ও উদ্যোগ আছে তা বন্ধে সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আজ খুলনা জনউদ্যোগ ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষা প্রচারাভিযান এর আয়োজিত “সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠার ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিকার” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ভক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠিত ভক্তারা আরও বলেন, পরিবেশ ও সুন্দরবন রক্ষায় করা আইন বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর কোন প্রকার দূর্নীতির আশ্রয় না নিতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নীতি নির্ধারক বা আইনপ্রণেতারা আইনের প্রতি যাতে শ্রদ্ধাশীল হন সেই দিকটিও বিবেচনায় আনতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য খুলনায় পরিবেশ আদালত গঠন করতে হবে।

এ সময় অনুষ্ঠানে জনউদ্যোগ, খুলনার ওসুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষা প্রচারাভিযান এর আহবায়ক এড. কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদিরের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সেফের সমন্বয়কারি মো: আসাদুজ্জামান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনউদ্যোগ খুলনার সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন। প্রবন্ধের উপর আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সংবিধান প্রণেতা এড. এনায়েত আলী, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ জাফর ইমাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফম মহসীন, বাসদের খুলনার সমন্বয়কারী জনার্দন দত্ত নান্টু, উদীচীর কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, ল’কলেজের অধ্যাপক এড. নুরুল হাসান রুবা, কৃষিবীদ নীল রতন সরকার, সাংবাদিক এনটিভির তৈয়ব মুন্সি, এস এ টিভির সুনীল দাস, মাছরাঙ্গা টিভির আবু হেনা মোস্তফা কামাল, দৈনিক জন্মভূমির সোহরাব হোসেন ছাড়াও আরো অনেকেই।

এসময় বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় ১৮৬টি শিল্পকারখানা ছিল। পরিবেশবিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি এসব কারখানাকে বৈধ করে অনুমোদন দিতে বলেছে। আবার পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) মৌজার সীমানা চিহ্নিত করে ২০১৫ সালে গেজেট প্রকাশের পর পরিবেশ অধিদপ্তর সেখানে ১১৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক ছাড়পত্র দিয়েছিল। জাতীয় পরিবেশ কমিটি সেগুলোও নবায়ন করতে বলেছে।

এ ছাড়া নতুন করে আরও ১৬টি শিল্পকারখানাকে অনুমোদন দিতে বলেছে কমিটি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আটটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বোতলজাত করার কারখানা বা এলপিজি প্ল্যান্ট, সিমেন্ট, তামাক, তেল পরিশোধন, ইটভাটার যা মারাত্মক দূষণকারী বা লাল তালিকাভুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাকি আটটি শিল্প বড় ও মাঝারি আকৃতির। এদেরও পরিবেশ ছাড়পত্র দিতে বলেছে জাতীয় কমিটি। তবে এগুলোতে কঠোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা যেমন সার্বক্ষণিক বর্জ্য, পানি ও বাতাস পরিশোধনযন্ত্র (ইটিপি, ডব্লিউডব্লিউটিপি ও এটিপি) করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে নানা ধরণের বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ শিল্পগোষ্ঠী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি আশপাশের গ্রামগুলিতে প্রায় ১০ হাজার একর জমি কিনেছে। এ থেকে বোঝা যায় যে, ভবিষ্যতে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় আরও শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।

এর ফলে, সেখানকার বাঘ, হরিণ, ডলফিনসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্র সীমিত হয়ে যাবে। বন আর বন্য প্রাণীর জন্য নিরুপদ্রব থাকবে না। বক্তরা বলেন এভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন শিল্প- কারখানা গড়ে উঠলে পরিবেশের ক্ষতি হবে। যার প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে প্রকৃতির সাথে লড়াই করতে হতে হবে। বক্তারা সুন্দরবন রক্ষার্থে সুন্দর বন আইন করার দাবি জানান।

শেখ লিয়াকত হোসেন/এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে