আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > আঠারো মাসে জিদানের সাত

আঠারো মাসে জিদানের সাত

আঠেরো মাসে জিদানের সাত ১

প্রতিচ্ছবি ক্রীড়া ডেস্ক:

দিন কয়েক আগেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতেছিল রিয়াল। বার্সেলোনাকে উড়িয়ে দিয়ে গতকাল রাতে তারা তুলে নিল স্প্যানিশ সুপার কাপ। লা লিগা শুরুর আগেই দুটো ট্রফি জেতা হয়ে গেল জিদানের দলের। আর রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে জিদান ১৮ মাসে জিতলেন সাত নম্বর ট্রফিটা।

বার্সেলোনাকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতার পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান বলেছেন, ‘বিজয় সাফল্যের একটি চক্র শেষ মাত্র কিন্তু অন্যটি এবার শুরু।’

স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগে ন্যু ক্যাম্পে ঠিক যেখানে ম্যাচটা শেষ করেছিল জিনেদিন জিদানের ছেলেরা, গতকাল শুরুটা করল সেখান থেকে। মিনিট চারেকের মধ্যে গোটা টাইয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো গোলটা করে ফেললেন সেই মার্কো এসেনসিও। গতম্যাচের শেষলগ্নে করা গোলের চেয়েও এদিনের গোলটি আরও বেশি দর্শনীয়। আর প্রথমার্ধের শেষদিকে স্যামুয়েল উমটিটিকে বোকা বানিয়ে করিমা বেনজেমা করলেন আরও একটা গোল।

আঠেরো মাসে জিদানের সাত ২

আগাগোড়া মাঠের আধিপত্য ধরে রেখে গ্যালাকটিকোস ম্যাচ জিতল ২-০ ব্যবধানে। দুই লেগ মিলিয়ে ফল ৫-১।

প্রাইভেট বক্সে বসে যেটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করলেন নির্বাসিত রোনালদো। পরে অবশ্য যোগ দিলেন ট্রফি জয়ের সেলিব্রেশনে।

রোনালদো না থাকায় রিয়াল বস জিদানকে কষতে হয়েছে নতুন ছক। কিছুটা অবাকই হয়েছিল বার্নাব্যুর দর্শকরা যখন দেখা গেল তিনি বেল-ইসকো-ক্যাসামিরোকেও রেখেছেন বিশ্রামে। ভরসা রেখেছিলেন এসেনসিও-লুকাস ভাসকাস-কোভাচিচদের উপরে।

আঠেরো মাসে জিদানের সাত ৩

কোচের ভরসার মর্যাদা দিয়ে বিদ্যুত গতিতে শুরুর পরে ৪ মিনিটের মাথায় এদিন রিয়ালকে লিড এনে দেন এসেনসিও। বার্সার ক্লিয়ারেন্স ধরে গোলের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের গোলার মতো ডিপ খাওয়ানো শট। পা থেকে বেরিয়ে শূন্যে ভেসে এসে স্টেগানকে দাঁড় করিয়ে রেখে বল জড়ালেন জালে। আগের ম্যাচের দুরন্ত গোলের পরে এদিনের গোল। মালোরকায় জন্মানো এই ২১ বছরের ফুটবলার ধীরে ধীরে প্রমাণ রাখছেন কেন রিয়ালভক্ত রাফায়েল নাদাল খোদ ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিতো পেরেজকে ফোন করে তার জন্মস্থানের এই ফুটবলপ্রতিভাকে সই করাতে সেধেছিলেন।

আঠেরো মাসে জিদানের সাত ৪

বার্সেলোনা গোল খেয়ে পালটা কিছুটা চেষ্টা করলেও তাদের প্রয়াসে গোল শোধ করার মতো ঝাঁঝ একেবারেই ছিল না। উল্টো ৩৯ মিনিটে মার্সেলোর ক্রস ধরে রিয়ালের ব্যবধানটা ২-০ করেন বেনজেমা। এক্ষেত্রে উমটিটিকে বোকা বানান তিনি। পিছনে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে থেকে দ্রুত গতি বাড়িয়ে উমটিটিকে টপকে এসে বল রিসিভ করে চকিত শটে বুদ্ধিদীপ্ত গোল করেন বেনজেমা।

আঠেরো মাসে জিদানের সাত ৫

আর বার্সা, আগের ক্লাসিকোর দিনেই নেইমারের অভাব চোখে পড়ছিল স্পষ্টভাবে। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। পাশাপাশি এর্নেস্তো ভেলভের্দের ৩-৫-২ ছক বুমেরাং হয়ে ফিরে এল শুরু থেকেই। রক্ষণে প্রচুর ফাঁক ফোকর তৈরি হচ্ছিল বারবার। বিশেষ করে দুরন্ত গতির রিয়ালের পালটা আক্রমণের সামনে মাঝেমধ্যেই অসহায় লাগছিল পিকে-মাসচেরানো-উমটিটিকে। পাশাপাশি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা না থাকায় মাঝমাঠে দখলদারীর জায়গাটাও কমতে থাকল।

আঠেরো মাসে জিদানের সাত ৬

দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি একবার সুয়ারেজের মরিয়া প্রয়াস ক্রসবারে লাগে। ব্যস এইটুকুই। মেসির শট নাভাস আটকালে রিবাউন্ড এসে পড়েছিল সুয়ারেজের কাছে। শরীর ছুঁড়ে দিয়ে রাখা সুয়ারেজের হেড করলেও লাভ হয়নি। যেমন কোনো কাজে আসেনি তাদের আরও একাধিক প্রয়াস।

আঠেরো মাসে জিদানের সাত ৭

আক্রমণের ভেদশক্তি না থাকায় রিয়ালের শক্তিশালী রক্ষণকে বেগ দিতেও পারেনি বার্সা। আর খুনে, দাপুটে ফুটবলে যোগ্য দল হিসেবেই ট্রফিটা তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ।

আঠেরো মাসে জিদানের সাত ৮

এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে