আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > স্বাস্থ্য > তাপদাহে ছড়াচ্ছে অসুখ, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়

তাপদাহে ছড়াচ্ছে অসুখ, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়

২৩ মে, ২০১৭

তাপদাহে ছড়াচ্ছে অসুখ, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

রাজধানীসহ সারাদেশে চলমান তীব্র তাপদাহে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরণের রোগ। তীব্র গরমে হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শিশুর নিউমোনিয়া, জন্ডিস, আমাশয় রোগীর সংখ্যা। এই গরমে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে দেখা গেছে রোগীদের ভিড়। অধিকাংশ রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তরাই ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে স্বাভাবিকের তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের প্রফেসর ডা. মো. মাহাবুবুল হক জানান, ‘সারাবছর এখানে শিশু রোগীর বেশ চাপ থাকে। তবে প্রচন্ড গরমের কারণে শিশুদের চাপ অনেক বেশি। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিদিন ভর্তিও বেশি হচ্ছে। আউটডোরেও চাপ অনেক বেশি। এই গরমের সময় সব কিছু নিয়ন্ত্রন করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই গরমে শিশুদের জ্বরটা বেশি হচ্ছে। সেই সাথে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, আমাশয়ও হচ্ছে। এখন আমাদের জ্বরের রোগী বেশি আসছে।’

dsh-outdorrঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৬৫০ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু গত এক মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ৮৫০ জন শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এতো রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে ডাক্তার ও নার্সদের।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারা বলছেন, গরমের তীব্রতা চলতে থাকলে এ সংকট বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। এই সময়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। বয়স্ক ও শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে। কর্মজীবী মানুষ যারা জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাচ্ছেন তাদের যথা সম্ভব গরম এড়িয়ে চলা উচিত।

এই গরমে করণীয় বিষয়ে ডা. মাহাবুবুল বলেন, ‘জ্বরের জন্য শিশুকে প্যারাসিটমাল সিরাপ খাওয়াতে হবে। ডায়রিয়া থেকে শিশুকে রক্ষা করতে লিকুইড খাবার বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। কোন ভাবেই শিশুকে ঘামতে দেয়া যাবে না। বার বার ভিজা কাপড় দিয়ে গা মুছিয়ে দিতে হবে। বড়দের ক্ষেত্রেও এগুলো মাথায় রাখতে হবে। বেশি জ্বর হলে ৫, ৬ ঘন্টা পরপর প্যারাসিটমাল ট্যাবলেট খেতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এরকম মৌসুমী রোগ হয়ে থাকে। এই ধরনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করাই উত্তম। এগুলো ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে যদি শ্বাসকষ্ট হয়ে যায় তাহলে চিকিৎসাটা নেওয়া উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ সময় বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। অনেক সময় তাদের নিউমোনিয়া হয়ে যায়। যদি নিউমোনিয়া হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে