আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > শিশু আবরারের চোখে বঙ্গবন্ধু

শিশু আবরারের চোখে বঙ্গবন্ধু

শিশু আবরারের চোখে বঙ্গবন্ধু ১

আহমেদ এফ রুমী

আবরার, রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবার হাত ধরে ধানমন্ডিতে এসেছে শোকদিবসে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। কতইবা বয়স, ৭ কিংবা ৮? এই বয়সেই বঙ্গবন্ধুকে জানতে তার আগ্রহ অনেক। সে জানতে চায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা।

শিশু আবরারের চোখে বঙ্গবন্ধু ২
ছবি: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙালির ঠিকানা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুভবনে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। এতো মানুষের ভিড়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি পর্যন্ত যেতে পারেনি সদ্য স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশুটি।

বাধ্য হয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির প্রবেশপথে পাথরের তৈরি ছবিতেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালো আবরার। এসময় তার বাবা রাকিব আরিয়ান তাকে জানালেন বঙ্গবন্ধুর খন্ড খন্ড গল্প। যা খুব অভিভূত করে আবরারকে। কৌতুহল আরো বেড়ে যায় তার।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি একমাত্র ছেলের কৌতুহল দেখে বাবা আরিয়ানও বেশ খুশি। তাই ছেলেকে নিয়ে ঢুকে গেলেন বাড়ির ভেতর। শোবার ঘর থেকে শুরু করে তামাক পাইপ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ব্যবহার করা সবকিছু দেখালেন আর ছেলেকে বললেন সেসবের ইতিহাস। বাদ যায়নি বঙ্গবন্ধুর শখের বাগানও। সেখানে ঘুরে ঘুরে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় সব ফুল-গাছপালাও দেখলো আবরার। এসব কিছুই ছিল তার অজানা।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে ফের সেই ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের কিছু ছবি তুললেন বাবা আরিয়ান। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরাও বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি। গল্প শুনে আর ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে জাতির পিতা সম্পর্কে জেনেছি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছেলের আগ্রহ দেখে খুব ভালো লাগছে। চেষ্টা করবো ছেলের মনে দেশপ্রেম জাগাতে।’

শিশু আবরারের চোখে বঙ্গবন্ধু ৩
ছবি: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া

তিনি আরো বলেন, ‘এখন তো স্কুলেও শিশুদেরকে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস শেখানো হয়। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। এতে কোমলমতি শিশুরা নিজের দেশের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। ফলে ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদে জড়ানোর আশঙ্কা থাকবে না।’

 

খুব ভোরেই ধানমন্ডিতে এসেছে আবরার। এখনো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দেখা হয়নি। তাই বাসায়ও ফিরতে চাচ্ছে না সে। এদিকে প্রচণ্ড ভিড় আর গরমে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাকে। তাই ছেলেকে নিয়ে কলাবাগানের একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলেন আরিয়ান। ভিড় কমলে আবার ঢুকবেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দেখতে।

কিছুটা কথা বলার ফুরসত মেলে আবরারের সঙ্গেও। ছোট্ট আবরার জানালো, ‘শেখ মুজিবকে দেখতে এসেছি। তার বাড়ি দেখেছি। স্কুলে আমি বঙ্গবন্ধুর বই পড়েছি।’ কিছুটা চমকে উঠে আরিয়ানের দিকে তাকাতেই তিনি বললেন, আবরারের বইয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গল্প-কবিতা আছে। ও সেগুলোই পড়ে।’

প্রায় একঘন্টা নানান কথাবার্তা শেষে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ফের বঙ্গবন্ধুর বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করলেন আরিয়ান। তার প্রত্যাশা, তরুণ-যুবকদের মাঝে দেশপ্রেম বাড়ুক, দূর হোক জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ।

রাজধানীর মগবাজারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আরিয়ান। থাকেন মিরপুরে। দুই দিনের ছুটিতে একটু সময় পেয়েই ছেলেকে নিয়ে ধানমন্ডিতে এসেছেন। বললেন, সুযোগ পেলে ছেলেকে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর পৈত্রিক ভিটা ও সমাধি সৌধ দেখতে যাবেন।

 

এআর/ডিডিআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে