আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > বিতর্কে তাজমহল, স্মৃতিসৌধ না শিব মন্দির?

বিতর্কে তাজমহল, স্মৃতিসৌধ না শিব মন্দির?

তাজমহল

প্রতিচ্ছবি ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:

মুঘল সম্রাট শাহজাহান নির্মিত তাজমহল স্মৃতিসৌধ, নাকি মুঘল সম্রাটকে রাজা রাজপুতের দেওয়া উপহার শিব মন্দির? ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি পরিষ্কার করতে বলেছেন সে দেশের কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন (সিআইসি)।

তথ্য জানার অধিকার আইনে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (এএসআই) দ্বারস্থ হন বিকেএসআর আয়েঙ্গার নামে এক ব্যক্তি। আরটিআইয়ের মাধ্যমে তিনি জানতে চান, আগ্রার সৌধ কি তাজমহল, না ‘শিব মন্দির’?

আয়েঙ্গার তার আবেদনে বলেছেন, ‘অনেকের মতে তাজমহল হল শিব মন্দির। অর্থাৎ, এটি শাহজাহান তৈরি করেননি। এটা তাকে রাজা মান সিং উপহার দিয়েছিলেন।’

ইতিহাসবিদ পিএন ওক তার ‘তাজমহল: দ্য ট্রু স্টোরি’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন, তাজমহল আদতে এক রাজপুত রাজার হাতে গড়া শিব মন্দির। সম্রাট শাহজাহান এটি গ্রহণ করেন। আয়েঙ্গার মূলত এই সূত্র ধরেই এএসআই দ্বারস্থ হন।

সপ্তদশ শতকের এই স্মৃতিসৌধের নির্মাণ সংক্রান্ত খুটিনাটি তথ্যও দাবি করেছেন আয়েঙ্গার। তিনি সৌধটির নির্মাণ, তার ঘর সংখ্যা, গোপন কুঠুরি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে যে ঘরগুলি বন্ধ রাখা হয়, সেবিষয়েও জানতে চান আয়েঙ্গার।

জবাবে এএসআই জানিয়েছিল, তাদের কাছে এ ধরনের কোনও তথ্য নেই। এদিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে তাজমহলের রহস্যের অবসান ঘটাতে বলেছেন ভারতের তথ্য কমিশনার শ্রীধর আচারায়ালু।

আচারায়ালু বলেন, আয়েঙ্গার আরটিআই আবেদনের মাধ্যমে তিনি তাজমহলের ইতিহাস নিয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণা আশা করেছিলেন। “কিন্তু আরটিআই আবেদনের মাধ্যমে বন্ধ ঘর খোলা, গোপন জিনিস প্রকাশ্যে আনা, তাজমহলের মতো সংরক্ষিত স্মৃতিসৌধের নীচে খননকার্য করা এবং ইতিহাস নতুন করে লেখার আবেদন অযৌক্তিক।”

‘তাজমহল: দ্য ট্রু স্টোরি’র লেখক পিএন ওক সম্পর্কে তথ্য কমিশনার জানান, “নিজেকে ইতিহাসবিদ দাবি করে ওক যে শুধু একটি বই লিখেছেন তা নয়, তাজমহলকে শিবমন্দির হিসাবে ঘোষণা করার জন্য ২০০০ সালে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাজমহল নিয়ে বাতিকগ্রস্ত হওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্ট তাকে তিরস্কার করেন।”

তাজমহল একটি মুঘল স্থাপত্য বলে এএসআই-এর যে সব বিজ্ঞপ্তি আছে তা সরিয়ে ফেলার আর্জি জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি মামলা করা হয়। তথ্য কমিশনার তারও উল্লেখ করেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি বিএস চৌহান ও বিচারপতি দিলীপ গুপ্তাকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বলে, এই আবেদনের মাধ্যমে কিছু তথ্য নিয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং ‘রিট’-এর আওতায় এর নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। এই রায় দিয়ে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে স্মৃতিসৌধ তাজমহল নিয়ে আগরা কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল ৷ তাজমহলে নাকি পূর্বে হিন্দু মন্দির ছিল ৷ দাবি করা হয় যে রাজপুত রাজা শাহজাহানকে তাজমহল উপহার দিয়েছিলেন ৷ তাই ঐতিহাসিক তাজমহলকে হিন্দু মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হোক ৷ এমনটা দাবি করেই মামলা দায়ের করা হয়েছিল ৷ সেখানে মুসলিমদের প্রবেশ অধিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথাও বলা হয়েছিল ৷ এরপর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়ে যায় বিতর্ক ৷

সেন্ট্রাল ইনফরমেশন কমিশনের আর্ডারে কালচার মন্ত্রককে তাজমহলের ইতিহাস নিয়ে বির্তক শীঘ্রই শেষ করার কথা বলেছেন ৷ পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয় এটা স্পষ্ট করার জন্য যে তাজমহল শাহজানের তৈরি স্মৃতিসৌধ না রাজপুত রাজার উপহার হিসেবে দেওয়া শিব মন্দির?

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে