আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > সালমান শাহ হত্যায় ১২ লাখ টাকার চু্ক্তি!

সালমান শাহ হত্যায় ১২ লাখ টাকার চু্ক্তি!

'সালমান শাহ হত্যায় ১২ লাখ টাকার চু্ক্তি'

প্রতিচ্ছবি বিনোদন ডেস্ক:

দুই দশক পার হলেও এখনো উন্মোচিত হয়নি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুরহস্য। এই রহস্য ঘোলাটে করে গত ৬ আগস্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সালমান শাহ হত্যা মামলার ৭ নম্বর আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবি ফেসবুকে (রুবি সুলতানা) এক ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি স্বীকার করেন নব্বই দশকের সবচেয়ে সফল এ নায়ক আত্মহত্যা করেননি তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর তার এমন বক্তব্যে গোটা দেশ নড়েচড়ে বসে।

আমেরিকা প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবির স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওবার্তার পর অনুসন্ধানে নামে দেশীয় গণমাধ্যমের কর্মীরা। আর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো একটি চমকপ্রদ তথ্য।

সালমান শাহকে হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন সালমানের স্ত্রী সামিরার মা লাতিফা হক। সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি রিজভী ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতেই এই কথা জানিয়েছিল। জবানবন্দিতে রিজভী বলে, সালমানকে হত্যা করতে সামিরার মা লাতিফা হক, ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন। এর মধ্যে হত্যার আগে ৬ লাখ ও পরে ৬ লাখ দেয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে।

হত্যার ঘটনা সম্পর্কে আসামি রিজভী জানায়, সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাই এসে সালমানের পা বাধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে।

এতে সামিরার মা লাতিফা হক সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সাথে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলায়।

এছাড়া জবানবন্দিতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও আসামি রিজভি ছাড়া ছাত্তার ও সাজু নামে আরো দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্ত প্রত্যক্ষ আসামির এই জবানবন্দির পরও যাদের নাম পাওয়া যায় তারা সবসময়ই ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

হত্যার এক বছর পর সিআইডির রিপোর্টে বলা হয়- এটি আত্মহত্যা। ১২ বছর পর দেয়া জুডিশিয়াল ইনকোয়ারির রিপোর্টে একই কারণ দেখানো হয়। কিন্তু রিপোর্টগুলোতে কোন আসামি বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কোন অস্তিত্ব নেই। দু’বারই নারাজি দেয় সালমানের পরিবার।

২০১৫ সালে র‌্যাবকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলে আইনী জটিলতায় তাও বন্ধ থাকে। ২০১৬ সালে মামলাটি নিম্ম আদালতে পাঠানো হলে তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

এদিকে সালমানকে হত্যার পরিকল্পনা জানার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন রুবি যা উঠে আসে রিজভীর জবানবন্দিতে। হত্যার আগে রুবির বাসায় গিয়েছিল হত্যাকারীরা।

অন্যদিকে ২১ বছর পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সালমান শাহ হত্যা মামলার অনেক কাগজপত্র। গণমাধ্যমকে এমন তথ্য দিয়েছেন মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিবিআই কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। এতে সালমান শাহ হত্যা মামলা ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছে ইমনের পরিবার।

বারবার নারাজি দেয়ার পরও তদন্ত বা মামলা পরিচালনায় গুরুত্ব পায়নি চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনা। এমনকি আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামি রিজভী স্বীকারোক্তি দেয়ার পরও কোন আসামিকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বরং তদন্তে গাফেলতির কারণে বেশিরভাগ আসামিই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এসব কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের গাফেলতি ও অসহযোগিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। তারপরও তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। দেশসেরা নায়ককে এমন নির্মভাবে হত্যা করে খুনিরা দিব্যি হেসেখেলে জীবন কাটাচ্ছে, এটা সালমানের কোটি ভক্তের জন্য সবচেয়ে দুঃখের কথা। তবে হাল ছাড়ছেন না সালমানের পরিবার ও তার ভক্তরা। বিচারের দাবি জানিয়ে হুংকার দিচ্ছেন সবাই। আশা করছেন দ্রুতই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই বিষয়ের সুরাহা করবেন।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে