আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > এক কক্ষেই বেড়ে উঠছে স্বপ্ন

এক কক্ষেই বেড়ে উঠছে স্বপ্ন

শিমুল তরফদার, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের চোখে দিগন্তজোড়া স্বপ্ন। বড় হয়ে তারা হবে শিক্ষক, চিকিৎসক কিম্বা বড় প্রতিষ্ঠানের চাকুরে। সে স্বপ্ন পুঁজি করেই পাহাড়ি পথ হেঁটে লংলিয়া পাহাড়ে বসবাসরত পুঞ্জির খাসিয়া সম্প্রদায়ের শিশুরা প্রতিদিন শিক্ষাগ্রহণ করতে আসে লংলিয়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে ।

longliya-school-04

চারদিকে পাহাড়, জঙ্গল সবুজের সমারোহ। সে পাহাড় জঙ্গল ভেদ করে তৈরী হয়েছে পাহাড়ি আকাঁবাকা পথ। এই পথের ফাঁক গলে এমনি দল বেঁধে আসে কোমলমতি শিশুরা। পরনে আকাশি-সবুজ  রঙ্গের বিদ্যালয়ের পোশাক। সবার হাতে বই-খাতা। হই-হুল্লোড় করে ছুটছে তারা বিদ্যালয় দিকে। পাহাড় জঙ্গল ঘেরা একটি আধাঁপাকা টিনের ছানির ঘর। একটি পাঠ্যকক্ষ। এই কক্ষেই শিক্ষা নিতে আসা শিশুদের স্বপ্নগুলো বেড়ে উঠছে।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার লংলিয়া পুঞ্জি। পান, লেবু, আনারস ইত্যাদি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে এই পুঞ্জির আদীবাসীরা। নিজেদের সন্তানের  ভর্বিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রায় ৩০ বছর পূর্বে এখানে স্থাপন করা হয়েছিল এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি। বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির অর্ধশত শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র ২জন। আশপাশের পাহাড়ে বসবাসকারী  প্রতিটি  শিশুরা এ স্কুলে পড়তে আসে। “অনেক কষ্ট করে হেঁটে এলেও তাদের মাঝে নেই কষ্টের কোন ছাপ। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার অদম্য ইচ্ছা তাদের। সকাল বেলা অন্যান্য স্কুলের মতো লাইনে দাড়িয়ে ওরাও গায় দেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি”।

srimangal-longliya-school-01

কথা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইগ্নোসিউস মানকিন এর সাথে। তিনি জানান, শহরের স্কুল এর মতো ওদের আলাদা আলাদা ভাবে কক্ষ নেই। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য দুই ভাগে পাঠদান করা হয়। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১ম ও ২য় শ্রেণীর এবং  আর  বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করানো হয়। স্কুলের মোট শিক্ষার্থী বর্তমানে ৫০ জন।

স্কুলে শিক্ষার্থী নিয়ে আসা অবিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, এই এলাকার একমাত্র স্কুল এটি । এলাকার এই শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে  যদি স্কুলটি সরকারি করন করা হয় তাহলে শিক্ষার মান আরো বাড়তো । এবং শিক্ষা উপকরন গুলো বিনা মুল্যে পাওয়া যেত।

শিমুল তরফদার / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে