আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > বিরামহীন সাঁতরে তাক লাগালেন ৬৬ বছরের মুক্তিযোদ্ধা

বিরামহীন সাঁতরে তাক লাগালেন ৬৬ বছরের মুক্তিযোদ্ধা

img_2473
প্রতিচ্ছবি ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

তখন ঘড়িতে সন্ধ্যা ৭ টা। শুক্রবার ময়মনসিংহের ফুলপুরের সরচাপুর কংশ নদীর ঘাট থেকে লাফিয়ে পড়লেন নদীতে। সাঁতরে ছুটছেন । ময়মনসিংহ নেত্রকোনার নদী তীরবর্তী দশ উপজেলা ছুঁয়ে নদীপথে  ১৪৬ কিলোমিটার বিরামহীন সাঁতরে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ৬৬ বছর বয়সের সাঁতারু ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। রবিবার দুপুর দুই টায় ৪৩ ঘন্টায় র্দীঘ এ পথ পাড়ি দিযে কংশ নদের ঘাটে পৌঁছেন।

আর এই সাঁতারুর সাঁতার দেখতে নদীর দুই তীরে হাজার হাজার মানুষ ভীড় জমায় । এই একক সাঁতারের আয়োজন করেছে ফুলপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং মদন উপজেলা নাগরিক কমিটি।

সাঁতার শুরুর আগে ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য জানিয়ে ছিলেন, সিলেট অরুন নন্দীর একক সাঁতার দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে এ সাঁতার প্রদর্শনীতে উদ্দীপনা পেয়েছি। শেরপুর নালিতাবাড়ী থেকে সাঁতার দেয়ার কথা থাকলেও নানা প্রতিকূলতায় ফুলপুর সরচাপুর কংস থেকে সাঁতার শুরু করেছি। অনেক সাঁতার কেটেছি, এটাই হবে হয়ত আমার জীবনের শেষ সাঁতার।

ক্ষিত্রিন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য নেত্রকোনার মদনের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত ক্ষিতিশ চন্দ্র বৈশ্যের ছেলে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের রনাঙ্গনে যুদ্ধ করে শত্রু বাহীনিকে পরাস্ত করে দেশ স্বাধীন করেছেন। এখনো মনের সাহস-শক্তি ও উদ্যম এক বিন্দুও কমেনি। মনোবল শক্ত হওয়ায় বয়স তাঁকে দমাতে পারেনি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এএনএস কনসালট্যান্ট হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পদার্থ বিদ্যায় এম এস সি পাশ করেন।

সাঁতারে এ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ৪টি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭০ সালে সিলেটের ধুপাদীঘি পুুকুরে অরুণ কুমার নন্দীর বিরামহীন ৩০ ঘণ্টার সাঁতার প্রদর্শনী দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। পরে একই সালে মদনের জাহাঙ্গীরপুর উন্নয়ন কেন্দ্রের পুকুরে তিনি ১৫ ঘণ্টার সাঁতার প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে আলোচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে সিলেটের রামকৃষ্ণ মিশন পুকুরে ৩৪ ঘণ্টা, সুনামগঞ্জের সরকারী হাইস্কুলের পুকুরে ৪৩ ঘণ্টা, ১৯৭৩ সালে ছাতক হাইস্কুলের পুকুরে ৬০ ঘণ্টা, সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরে ৮২ ঘণ্টা এবং ১৯৭৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথহলের পুকুরে ৯৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট বিরামহীন সাঁতার প্রদর্শন করে জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করেন। রেকর্ড সৃষ্টি করায় ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ডাকসুর উদ্যোগে ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল হয়। ১৯৭৬ সালে তিনি জগন্নাথ হলের পুকুরে ১শ’ ৮ ঘণ্টা ৫ মিনিট সাঁতার প্রদর্শন করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জগন্নাথ হলের পুকুর পাড়ে একটি স্মারক ফলক নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ঢাকা স্টেডিয়ামের সুইমিং পুল, মদন উপজেলা পরিষদের পুকুর এবং নেত্রকোনা পৌরসভার পুকুরে তার একাধিক সাঁতার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ভারতেরও দূরপাল্লর সাঁতার প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮০ সালে মাত্র ১২ ঘণ্টা ২৮ মিনিটে মুর্শিদাবাদের ভাগিরথী নদীর জঙ্গীপুর ঘাট থেকে গোদাবরী ঘাট পর্যন্ত ৭৪ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দেন। র্স্বণপদকসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে