আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > ধর্ষক তুফান আবারো রিমান্ডে, মুন্নার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ধর্ষক তুফান আবারো রিমান্ডে, মুন্নার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ধর্ষক তুফান নতুন করে রিমান্ডে, মুন্নার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

প্রতিচ্ছবি বগুড়া প্রতিনিধি :

বগুড়ায় ধর্ষিত তরুণীর মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ফরেসনিক বিভাগের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড এই রিপোর্ট পুলিশের কাছে পাঠিয়েছে।

এদিকে ধর্ষক তুফান ও কাউন্সিলর রুমকির রিমান্ড শেষে শুক্রবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ আরো ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে বিচারক তুফান ও রুমকির ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে, তুফানের সহযোগী মুন্না আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আহসান হাবিব মুন্নার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বৃহস্পতিবার রাতে মেডিকেল রিপোর্ট তার হাতে পৌঁছানোর কথা স্বীকার করে বলেন, এতে ধর্ষণের আলামতসহ মেয়েটির বয়স ১৭ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ আরো জানিয়েছেন, তুফানসহ ৩ জনকেই অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সদর) হাজির করে তুফান ও রুমকির ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আর সহযোগী মুন্না আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এর আগে প্রথম দফায় প্রধান আসামী তুফান সরকারকে তিনদিন পরে আরো দুইদিনের রিমান্ড নেয়া হয়। কাউন্সিলর রুমকিকে চারদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তুফানের স্ত্রী আসামি আশা সরকারকে প্রথম দফায় দুইদিন ও পরে একদিন, তুফানের শ্বাশুড়ি রুমি খাতুনকে প্রথমে দুইদিন পরে একদিন, সহযোগী মুন্নাকে প্রথম দুইদিন ও পরে দুইদিন, আসামী জিতুকে দুইদিন, রুপমকে তিনদিন, দিপুকে তিনদিন, তুফানের শ্বশুরকে দুইদিন, ও নাপিত জীবন রবিদাসকে দুইদিন করে রিমান্ড দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল ভাল কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে ওই তরুনীকে বাসায় ডেকে নিয়ে এসে জোরপূবক ধর্ষণ করে। এ খবর পেয়ে ধর্ষক তুফানের স্ত্রী ও তার বোন কাউন্সিলর রুমকি ধর্ষিতা তরুনী ও তার মাকে ধরে নিয়ে রুমকির বাড়িতে নির্যাতন চালিয়ে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। পরে তাদের একটি রিক্সায় তুলে দিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়।

কিন্তু স্থানীয় এক ব্যক্তি তরুণীর ওপর নির্যাতন দেখে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিষয়টি হাসপাতাল ফাঁসি পুলিশ বগুড়া সদর থানায় অভিহিত করলে পুলিশ রাতে তুফানসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ২টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ১০ জনকে আসামী করা হয়। মামলার ৯ জন আসামীসহ ১১জন গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় শুরু হলে শহর শ্রমিক লীগের আহবায়ক পদ থেকে তুফান সরকারকে বহিষ্কার করা হয়। এর পর তুফানের বড় ভাই আব্দুল মতিন সরকারকেও শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আমজাদ হোসেন মিন্টু/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে