আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ক্যাম্পাস > ব্র‍্যাকের আন্দোলনের উত্তাপ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে

ব্র‍্যাকের আন্দোলনের উত্তাপ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে

ব্র‍্যাকের আন্দোলনের উত্তাপ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে

আহমেদ এফ রুমী:

৫ দিনেও দমেনি শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ব্র‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ভিসি ও রেজিস্ট্রারকে অবরোধ, ক্লাস বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পরও থেমে নেই আন্দোলন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত না থামার ঘোষণা দিয়ে বৃহস্পতিবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী ফাহিম প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘যতক্ষন পর্যন্ত ভার্সিটি প্রশাসন আমাদের প্রস্তাব মেনে না নেবে। আমরা কোনো ধরণের সমঝোতায় যাবো না। তদন্ত কমিটিকে কোনো সুযোগ দেয়া হবে না, ফারহান স্যারকে মারধরের বিচার করতেই হবে।’

বিক্ষোভে অংশ নেয়া অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও একই কথা জানায়।

brac_2

এদিকে, ব্র‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। আন্দোলনে সক্রিয় হতে না পারলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে ব্র‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন এআআইইউবি, আহসানুল্লাহ ইইউনিভার্সিটি, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিসহ অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বনানীর এআইইউবি’র শিক্ষার্থী জামিল এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ব্র‍্যাক ইউনিভার্সিটির বর্তমান অবস্থার জন্য প্রশাসন দায়ী। শিক্ষার্থীদের ওপর একনায়কতন্ত্র চালাতে চাইলে তারা তো প্রতিবাদ করবেই। যদি সঠিক সমাধানের মাধ্যমে আন্দোলন তুলে নেয়া না হয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’

একই কথা জানালেন আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী দোলা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভার্সিটিতেও কিছুদিন আগে একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও প্রশাসনের সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ব্র‍্যাক ইউনিভার্সিটি প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে তাদের দাবি মেনে নেয়া। তাহলেই আন্দোলন দমবে বলে আমি মনে করি।’

brac_3

ব্র‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে কথা নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুলের সঙ্গেও। প্রতিচ্ছবিকে তিনি বলেন, ‘আমরা ব্র‍্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে সহমত। শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা, ছাত্রছাত্রীদের অবহেলা করা প্রশাসনের কোনভাবেই উচিত হয়নি। যত দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য তত মঙ্গল।’

কামরুল আরো জানান, ‘আমরা ব্র‍্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দিয়ে ফেসবুকে গ্রুপ-ইভেন্ট খুলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদেরকেও আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। যতদিন এ সমস্যার সমাধান না হয়, আমরা থেমে থাকবো না।’

এদিকে, লাঞ্ছিত শিক্ষক ফারহান উদ্দীন আহমেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের শান্ত থাকতে বলেছেন। এছাড়া, প্রশাসনকে সহায়তা করতেও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

brac_

এছাড়া, বৃহস্পতিবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সামনে আমরণ অনশন করছেন ৬ শিক্ষার্থী। তারা হলেন- ইয়াসিন, কামরুন নাহার, ইরফান, সাদিয়া, নোমান এবং আকাশ। তাদের দাবি- বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ ও পুরুষ নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নারী শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন ভাঙবেন না।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের মন্তব্য জানতে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের মূল গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে