আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > অবশেষে দূর হলো ১৮ বাংলাদেশির হজের অনিশ্চয়তা

অবশেষে দূর হলো ১৮ বাংলাদেশির হজের অনিশ্চয়তা

অবশেষে দূর হলো ১৮ বাংলাদেশির হজের অনিশ্চয়তা

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক :

সৌদি আরবের মোয়াল্লেম ফি নিয়ে হজ এজেন্সিগুলোর সাথে দর কষাকষি শেষে দুই কিস্তিতে ফি পরিশোধের সুবিধা দেয়ায় ১৮ হাজার বাংলাদেশির হজ করা নিয়ে সঙ্কট কেটেছে।

হজ এজেন্সি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব এম. শাহাদাত হুসাইন তাসলিম প্রতিচ্ছবিকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘সৌদি আরবের মোয়াল্লেম ফি নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল তা সমাধান হয়ে গেছে। এজেন্সির মালিকরাই ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মক্কায় হাজী সেবা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এ এফ এম বোরহানুদ্দিন। এই বৈঠকে পর রোববার থেকে সংশ্লিষ্ট ৯১টি এজেন্সিকে মোয়াল্লেম নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোকে দুই কিস্তিতে এই ফি পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

শাহাদাত হুসাইন তাসলিম বলেন, ‘যে ১৮ হাজার হাজীর মোয়াল্লেম ফি নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছিল তারা ‘সি’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিস পাচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশী হাজীদের জন্য নির্ধারিত ‘ডি’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিসের কোটা ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে এজেন্সিগুলো। প্রায় ১৮ হাজার হজযাত্রীর মোয়াল্লেম সার্ভিসের জন্য চুক্তি করতে গিয়ে এমন বিপাকে পড়েছে ৯১টি হজ এজেন্সি।

৯১টি হজ এজেন্সির মালিক ও প্রতিনিধিরা গত বুধবার রাতে মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হজ এজেন্সির মালিকরা বলেন, বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজের আওতায় গত বছর ‘ডি’ গ্রেডের মোয়াল্লেম ফি ৫২০ রিয়াল করে ধার্য ছিল। যার ফলে ওই নির্ধারিত ফিতে হাজিদের সেবা দিতে প্রস্তুতি নিয়ে গ্রামের মানুষদের কাছ থেকে কম টাকা নেন হজ এজেন্সির মালিকরা। কিন্তু সৌদি আরব সরকার দুই মাস আগে বিভিন্ন গ্রেডের মোয়াল্লেমদের ফি বৃদ্ধি করে। প্রথম এ গ্রেডে ৩৯৫০ রিয়াল, বি গ্রেডে ১৯০০ রিয়াল, সি গ্রেডে ১৫০০ রিয়াল ও ডি গ্রেডে ৭২০ রিয়াল নির্ধারণ করে। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় ও হজ কাউন্সিল এই ব্যাপারে আগে কোনো তথ্য দেয়নি।

মালিকরা আরো বলেন, বাংলাদেশি হজ এজেন্সিগুলো সচরাচর ‘ডি’ গ্রেডের মোয়াল্লেমদের মাধ্যমে হাজি নিয়ে আসে। ওই গ্রেডের মোয়াল্লেম ফি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া এখন ওই গ্রেডের মোয়াল্লেমও নেই। ‘সি’ গ্রেডে ১৫০০ রিয়ালের মাধ্যমে মোয়াল্লেম ফি দিয়ে হাজি নিয়ে আসা সম্ভব নয়।

হজ এজেন্সির মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, মোয়াল্লেম ফি বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ হজ মিশন ও হজ কাউন্সিল অফিস এই বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানায়নি। তাঁরা এখন হজযাত্রীদের হজ করা নিয়ে চিন্তিত। জন প্রতি দেড় হাজার রিয়াল মোয়াল্লেম ফি দিয়ে হাজিদের সেবা দেওয়া প্রায়ই অসম্ভব। আগামী কয়েকদিনের মধ্য এই সমস্যার সমাধান না হলে ১৮ হাজার বাংলাদেশির হজ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এই নিয়ে তাঁরা হজ ট্রেডিংয়ের চেয়ারম্যান ড. রাশেদ বদর ও সচিব ওমর আকবরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। চেয়ারম্যান বারবার বলে আসছেন, সৌদি আরব সরকারের আইনের বাইরে গিয়ে তাঁদের কিছুই করার নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে এই দূর অবস্থা থেকে তাঁরা মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা করছেন হজ এজেন্সির মালিক-প্রতিনিধিরা।

এমএ/এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে