আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > লাইফ-স্টাইল > সন্তান থেকে মানবিক মানুষ

সন্তান থেকে মানবিক মানুষ

20527282_10213705912903336_2098280511_n

স্মৃতি ভদ্র:

নিরবিচ্ছিন্ন মানবিক চর্চা মনুষ্য কাঠামোতে প্রাণের সঞ্চার করে। নিরলস মানবিক চর্চা আমাদের আস্তে আস্তে মানুষ করে তোলে। আর এই মানবিকতার চর্চা শুরু করতে হয় একদম শৈশব থেকে। পরিবারকে মূখ্য ভূমিকা নিতে হয় এক্ষেত্রে সচেতন ভাবে। নীতিবোধের সুচারু ধারণা গ্রোথিত হয় কিন্তু এই পরিবার থেকেই। তাই পরিবারকে বলা যায় মানবিক বোধের আঁতুড়ঘর।
একটি শিশু বড় হয়ে কতটা মানবিক হবে, তা নির্ভর করে তার পরিবারে মানবিক চর্চার পরিবেশ কতটা দৃঢ় তার উপর। পরিবারের সদস্যদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাই কিন্তু শিশুর শিক্ষার মূল উপকরণ। প্রতিনিয়ত শিশু যা দেখবে তাই তার কাছে অভিজ্ঞতা। আর জ্ঞানের সবচেয়ে বড় উপকরণ হলো অভিজ্ঞতা। তাই আমাদের শুদ্ধ জীবনযাত্রা গড়ে তোলে শুদ্ধ সন্তান, মানবিক মানুষ।
আমরা মা – বাবারা অনেকসময় সন্তানের কোনো অন্যায় আবদারকে মেনে নিব বলে কথা দিয়ে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে অনুকূলে আনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে এনে সেই অন্যায় আবদার প্রত্যাখ্যান করি। আর এভাবে আমরা সন্তানদেরকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিথ্যা বলা শিখিয়ে দিচ্ছি, নিজেদের অজান্তে। এসবক্ষেত্রে সন্তানের যেকোনো অন্যায় আবদার যে অন্যায় তা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া অবশ্য কর্তব্য। এতে করে শিশুটি অন্যায়কে অন্যায় বলা শেখে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পারিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থাকা এবং তা প্রদর্শন করাটা খুব জরুরী। এই প্রদর্শনীয় শ্রদ্ধাবোধ শিশুকে অনুপ্রাণিত করবে অন্যকে শ্রদ্ধা করতে। অনেক ছেলে সন্তান পরিবারে মাকে/ মেয়েদের অসম্মানিত হতে দেখে পরবর্তীতে সেও মেয়েদের অসম্মান করে থাকে। কারণ শিশুবেলা থেকেই সে দেখে এসেছে মা/মেয়েরা অসম্মানীয়। আর মেয়ে সন্তান মাকে/ মেয়েদের অসম্মানিত হতে দেখে আস্তে আস্তে হীনমন্য হয়ে পড়ে। তাই মানুষ হিসেবে সবাইকে সম্মান করার চর্চা থাকা খুব প্র‍য়োজন প্রতিটি পরিবারে।
প্রতিটি পরিবারেই সমালোচনা হয়। কিন্তু তা যেন হয় গঠনমূলক। একে অন্যের অর্থহীন সমালোচনা দেখে বড় হওয়া শিশুটিকেও আমরা করে তুলি অহেতুক সমালোচক। তাই পরিবারের বড়দের সচেতনভাবে এড়িয়ে চলা উচিত অর্থহীন সমালোচনা।
আবার অনেক বাবা-মা একটু পিছিয়ে পড়া সন্তানটির সমালোচনা করে এমনকি অন্য কোনো এগিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের সাথে তুলনা করে সন্তানটির মারাত্মক ক্ষতি করে। এই সমালোচনা আর তুলনায় সন্তানটি আস্তে আস্তে আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয় এগিয়ে যাওয়া বাচ্চার সাথে তুলনা করে আমরা আমাদের সন্তানদের ঈর্ষাপরায়ণ করে তুলি।
অনেক পরিবারে ছেলে সন্তান আর মেয়ে সন্তানের মধ্যে এত প্রভেদ করা হয় যে, সবকিছুতে ছেলে সন্তানটিকে বেশী ছাড় দেওয়া হয়। কিংবা ছেলেদের এটা করতে হয় না, মেয়েদের কাজ এটা এভাবে অসামঞ্জস্যতার মাঝে বেড়ে ওঠা ছেলে সন্তানটি আস্তে আস্তে দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়ে পড়ে। আর মেয়েটি নিজের প্রাপ্যটুকু না পেয়ে নিজের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে থাকে।
অনেক মা-বাবা সন্তানদের অতিরিক্ত শাষণ করে থাকে। প্রতিপদে সন্তানের খুঁত ধরে শাষণ করা আদতে সন্তানের ক্ষতি করে থাকে। কঠোর শাষণ সন্তানকে আবেগহীন করে তোলে। আর আবেগহীন হয়ে সন্তানটি মনুষ্য কাঠামোয় বন্দি হয়, কিন্তু মানুষ হতে পারে কি?
যে মানবিক চর্চা নিরলস আমরা যাপিত জীবনে করে থাকি, তা হলো ভালবাসা। এই মানবিক গুণটি হচ্ছে পরশপাথর। যার ছোঁয়ায় অসাধ্য পাথরসম সবকিছু সহজসাধ্য হয়। তাই সন্তানের প্রতি ভালবাসার প্রকাশটা যেন খুব সাবলীল হয়। আমাদের প্রকাশিত ভালবাসাই সন্তানদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
আমাদের সন্তানদের আস্তে আস্তে মানুষ করে তোলার কঠিন কাজটি খুব ধৈর্য্য নিয়ে, সুচিন্তার প্রয়োগ করে আমাদেরকেই করতে হবে। একটি শুদ্ধ মানবিক চর্চার পরিবার থেকেই বেড়িয়ে আসে এক একটি শুদ্ধ মানুষ। পারিবারিক শুদ্ধতাই পারে সমাজকে শুদ্ধ করতে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে