আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > অনিশ্চয়তার মুখে ১৮ হাজার হজযাত্রী

অনিশ্চয়তার মুখে ১৮ হাজার হজযাত্রী

হজ

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক :

বাংলাদেশীদের জন্য নির্ধারিত ‘ডি’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিসের কোটা ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে এজেন্সিগুলো। প্রায় ১৮ হাজার হজযাত্রীর মোয়াল্লেম সার্ভিসের জন্য চুক্তি করতে গিয়ে এমন বিপাকে পড়েছে ৯১টি হজ এজেন্সি।

এখন ‘সি’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিস নিতে গেলে হজযাত্রী প্রতি অন্তত ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হবে। এ কারণে প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশির হজ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে মক্কায় অবস্থানরত হাবের সিনিয়রসহ সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘ডি’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিসের কোটা ফুরিয়ে গেছে। এখন কোটা বৃদ্ধি করার জন্য চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে। কোটা বৃদ্ধি করা হলে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। হজযাত্রী প্রতি ১৫’শ রিয়ালের ‘সি’ ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিসে কোটা রয়েছে। যে কেউ তা নিতে পারে। এখনো ৯১টির মতো এজেন্সি মোয়াল্লেমদের সাথে চুক্তি করতে পারেনি।আমরা এখন মক্কায় অবস্থান করছি।

হজ ক্যাম্পের পরিচালক ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব মো. হাফিজ উদ্দিন এই প্রতিবেদককে জানান, ‘যে সকল এজেন্সি মক্কাতে তারাই এটার সমাধান করবেন। সেটার জন্য আমাদের কাউন্সিলরকে বলা আছে যে এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগীতা করা হয়। এই কাজটা মূলত এজেন্সিরই। এখানে আমাদের কোন ভূমিকা নেই।’

এদিকে, ৯১টি হজ এজেন্সির মালিক ও প্রতিনিধিরা বুধবার রাতে মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হজ এজেন্সির মালিকরা বলেন, বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজের আওতায় গত বছর ‘ডি’ গ্রেডের মোয়াল্লেম ফি ৫২০ রিয়াল করে ধার্য ছিল। যার ফলে ওই নির্ধারিত ফিতে হাজিদের সেবা দিতে প্রস্তুতি নিয়ে গ্রামের মানুষদের কাছ থেকে কম টাকা নেন হজ এজেন্সির মালিকরা। কিন্তু সৌদি আরব সরকার দুই মাস আগে বিভিন্ন গ্রেডের মোয়াল্লেমদের ফি বৃদ্ধি করে। প্রথম এ গ্রেডে ৩৯৫০ রিয়াল, বি গ্রেডে ১৯০০ রিয়াল, সি গ্রেডে ১৫০০ রিয়াল ও ডি গ্রেডে ৭২০ রিয়াল নির্ধারণ করে। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় ও হজ কাউন্সিল এই ব্যাপারে আগে কোনো তথ্য দেয়নি।

মালিকরা আরো বলেন, বাংলাদেশি হজ এজেন্সিগুলো সচরাচর ‘ডি’ গ্রেডের মোয়াল্লেমদের মাধ্যমে হাজি নিয়ে আসে। ওই গ্রেডের মোয়াল্লেম ফি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া এখন ওই গ্রেডের মোয়াল্লেমও নেই। ‘সি’ গ্রেডে ১৫০০ রিয়ালের মাধ্যমে মোয়াল্লেম ফি দিয়ে হাজি নিয়ে আসা সম্ভব নয়।

হজ এজেন্সির মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, মোয়াল্লেম ফি বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ হজ মিশন ও হজ কাউন্সিল অফিস এই বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানায়নি। তাঁরা এখন হজযাত্রীদের হজ করা নিয়ে চিন্তিত। জন প্রতি দেড় হাজার রিয়াল মোয়াল্লেম ফি দিয়ে হাজিদের সেবা দেওয়া প্রায়ই অসম্ভব। আগামী কয়েকদিনের মধ্য এই সমস্যার সমাধান না হলে ১৮ হাজার বাংলাদেশির হজ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এই নিয়ে তাঁরা হজ ট্রেডিংয়ের চেয়ারম্যান ড. রাশেদ বদর ও সচিব ওমর আকবরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। চেয়ারম্যান বারবার বলে আসছেন, সৌদি আরব সরকারের আইনের বাইরে গিয়ে তাঁদের কিছুই করার নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে এই দূর অবস্থা থেকে তাঁরা মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা করছেন হজ এজেন্সির মালিক-প্রতিনিধিরা।

এমএ/এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে