আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ঢাকা > টানা বৃষ্টির পর আকাশে ঝলমলে রোদ: স্বস্তিতে নগরবাসী

টানা বৃষ্টির পর আকাশে ঝলমলে রোদ: স্বস্তিতে নগরবাসী

টানা বৃষ্টির পর আকাশে ঝলমলে রোদ: স্বস্তিতে নগরবাসী

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

টানা তিনদিনের বৃষ্টি শেষে ঢাকার আকাশে ঝলমেল সূর্যের আলো। আর তাতে স্বস্তি ফিরেছে নগর জীবনে। হাফ ছেড়ে বেঁচেছে কাকভেজা হয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষরা। শেষ কয়েক দিন শ্রাবণের টানা বর্ষণে তা চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল নগর জীবনে। তীব্র জলজট আর যানজটে হাপিয়ে উঠেছিল নগরবাসী। বিশেষ করে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর অবস্থা ছিল আক্ষরিক অর্থেই শোচনীয়। বিশেষ করে বুধবার ঢাকা শহর পানির নিচে চলে যাওয়ায় মানুষের কষ্টের সীমা ছিলো না।

তবে সকাল বেলাই মেঘের আড়াল থেকে হেসে ওঠে সূর্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ভ্যাপসা গরমে রূপ নিলেও স্বস্তি আসে নগরবাসীর। জলাবদ্ধাতায় কয়েকদিন বন্দি থাকার পর রোদের কড়া তাপ মাথায় নিয়েও বাইরে বের হতে পারছে মানুষ।

img_20170727_141913

টানা বৃষ্টির কারণে অলস সময় কাটানো দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের মুখে ফিরেছে হাসি। নুন আনতে পান্তা ফুরনো এসব মানুষরা রোদ দেখার পর থেকেই কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় রাস্তার পাশে কুঁড়েঘর বানিয়ে ঠাঁই নেয়া আব্দুল মালেক প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘কি বৃষ্টি কি রইদ, আংগরে সব সময়ই কাজ করতে অয়। তয় বৃষ্টির সময় কাজকাম কম থাকে, আর বৃষ্টির পানিতে বেশিক্ষণ ভিজলে জ্বর আহে। তহন তিন চারদিন বিছানায় পইড়্যা থাকতে হয়। কাজ কাম করতে পারিনা, না খাইয়া থাকতে হয়। তার চেয়ে আংগরে রইদই ভালা, রইদই পুড়লেও তো দিনে কয়টা খাইতে পারি।’

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখেও ফিরেছে হাসি। ধানমন্ডির স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার দোকানি আমজাদ মিয়া প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দোকানে পানি ওঠায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। মজুদ থাকা জিনিসগুলোর মধ্যে অনেক পণ্যই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে আজ রোদ ওঠায় আরো বড় ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছি। এখন পানি কমলে আশা করছি গত কয়েক দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।’

untitlমালিবাগের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী আফজাল হোসেনের অভিব্যক্তিও একইরকম। ‘রোদে পুড়ে তবু অফিসে যাওয়া যায়। গাড়িঘোড়া পাওয়া যায়। কিন্তু বৃষ্টি হলে তো কথায় নেই, একে গাড়ির সংকট তার উপর গুণতে হয় বাড়তি ভাড়া। জল কাদা মেখে পৌঁছাতে হয় অফিসে। পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।’

টানা বৃষ্টির এই কয়েকদিনে সরজমিনে দেখা গেছে, যানজটের পাশাপাশি রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা  ছিলো কম। গাড়ি না পাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষের। তাদের অভিযোগ, এ’কদিনে গুণতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় কাকভেজা হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকেই।

রাজধানীর কিছু নিচু এলাকার অলিগলি এখনও পানিতে থইথই। অনেক জায়গায় বৃষ্টির সঙ্গে নর্দমার পানি মিশে একাকার। আর এসব পানি শরীরে লাগায় ছড়িয়ে পড়ছে  চর্ম রোগ।

এদিকে, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশের বৃষ্টিপাত আরো দু’একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। হতে পারে ভারি বর্ষণও।

তবে এসব ছাপিয়ে রাজধানীতে ফিরে এসেছে রোদের স্বস্তি। হাতে জমে থাকা কাজগুলো শেষ করতে বেরিয়ে পড়েছেন নগরবাসী।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে