আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ক্যাম্পাস > সিদ্দিকুরকে চেন্নাই পাঠানোর সিদ্ধান্তে পরিবারে আশার আলো

সিদ্দিকুরকে চেন্নাই পাঠানোর সিদ্ধান্তে পরিবারে আশার আলো

সিদ্দিকুরকে চেন্নাই পাঠানোর সিদ্ধান্তে পরিবারে আশার আলো

আহমেদ এফ রুমী :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ভারতের চেন্নাই নেয়া হচ্ছে পুলিশের টিয়ার শেলের আঘাতে দুই চোখ হারানো তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানকে। এ খবরে আশার আলো দেখছে সিদ্দিকুর ও তার পরিবার।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিদ্দিকুরের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

siddiq-1সোমবার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে সিদ্দিকুরকে দেখার পর তাকে প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর ইঙ্গিত দেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর কয়েক ঘণ্টা পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিদ্দিকের চিকিৎসার আর্থিক খরচ বহনসহ সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে করেছে।

সিদ্দিকুরের পরিবার বলতে বয়স্ক মা আর দুই ভাই-বোন। তাদের কাছে সিদ্দিকুরই ছিলেন আশার আলো। অনার্স শেষ করে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা ছিল সিদ্দিকুরের। আশা ছিল পড়াশুনা শেষ করে পরিবারের হাল ধরবে সিদ্দিক। কিন্তু চোখের আলোর সঙ্গে সঙ্গে সিদ্দিকুরের সেই আশার আলোও যেন নিভে যেতে বসেছিল।

তবে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর নিভে যাওয়া আশার আলো ফের জ্বলে উঠেছে সিদ্দিকুর ও তার পরিবারের মনে। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি বলতে সিদ্দিকুরের বড় ভাই নায়েব আলী। এছাড়া বাড়িতেই ছোটখাটো আয়ের ব্যবস্থা করতেন সিদ্দিকুরের মা সোলেমা আক্তার।siddiq-5

উন্নত চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নতমানের চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে নেয়া হচ্ছে সিদ্দিকুর রহমানকে। তার পরিবার, সহপাঠী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশা ফের দেখতে পাবেন সিদ্দিকুর।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিদ্দিকুরের মা সোলেমা আক্তার প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘আমার সিদ্দিকের চোখ নষ্ট হওয়ার পর সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল আমাদের। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ফের আশার আলো দেখিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

সোলেমা আক্তার আরো বলেন, ‘আমার বড় ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। খুব বেশি পড়তে পারে নাই। তাই, আমরা চাইতাম সিদ্দিকুর পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করে পরিবারের হাল ধরুক। আমাদের সে আশা শেষ হতে বসেছিল। এখন আমাদের সিদ্দিক আবার চোখে দেখতে পাবে। আমরা অনেক খুশি।’

এদিকে, সিদ্দিকুরের সহপাঠী তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ইয়াসিন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ডাক্তার যখন বলেছিল সিদ্দিকুরের চোখে দেখার আশা ক্ষীণ। আমরা সবাই ভেঙে পড়েছিলাম। সিদ্দিকুরের মা-ভাইয়ের কথা ভেবে খুব খারাপ লাগতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবার আশা ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমরা চাই সিদ্দিকুর সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।’

ঢাকা কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল-রিয়াদ-তানজির-রিফাত-আতিক-সানীসহ আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী শুরু থেকেই সিদ্দিকুরের পাশে অছেন। সিদ্দিকুরের চিকিৎসার জন্য বিভিন্নভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। প্রতিচ্ছবির কাছে তারা জানান, ‘সিদ্দিকুর আমাদেরই ছোটভাই, আমরা কোনোভাবেই চাইনি তার ভবিষ্যৎ এভাবে অন্ধকার হয়ে যাক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্দিকুরের প্রতি সুদৃষ্টি দিয়েছেন, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

siddiq-4

গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সময়মতো পরীক্ষা নেয়াসহ সাত দফা দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোঁড়ে।

পুলিশের টিয়ার শেলের আঘাতে দুই চোখের দৃষ্টি হারায় তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। সিদ্দিকুর এখন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন।

আর/ডিডিআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে