আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিজ্ঞান প্রযুক্তি > ফেসবুক আসক্ত, নাকি নোমোফোবিয়া’য় আক্রান্ত?

ফেসবুক আসক্ত, নাকি নোমোফোবিয়া’য় আক্রান্ত?

ফেসবুকে আসক্তি ‘নোমোফোবিয়া’য় আক্রান্ত? প্রতিচ্ছবি ডেস্ক:

ফেসবুক থেকে জেনে নিচ্ছি অনেক আপডেট। তবে আমরা ফেসবুক আসক্ত নই তো? সারদিন মোবাইল ফোন নিয়ে বসে থাকার আসক্তির নাম নোমোফোবিয়া। আর আমরা ইদানিং স্মার্ট ফোনে নেট ব্রাউজিং এর জন্য অত্যধিক হারে মোবাইল ব্যবহার করছি। হয়তো আমরা অল্প আঁচ করতে পারি বা মোটেও পারি না, কিন্তু আমরা প্রায় ৬৫% লোক এ রোগটিতে ভুগছি।

‘নোমোফোবিয়া’য় আক্রান্তদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হল-

১. ঠিক ঘুমুতে যাওয়ার আগে বা ঘুম থেকে উঠে আপনি কি মোবাইলের নোটিফিকেশন চেক করেন?

২. কোন স্ট্যাটাসে কমেন্টের পর রিপ্লাই না পাওয়া পর্যন্ত অস্থিরতা বোধ করেন?

৩. এখনই ফেসবুকে না ঢুকলে মনে হয় কোন শিক্ষণীয় পোস্ট মিস হয়ে যাবে।

৪. মনে হয় এইতো আর ৫ মিনিট চ্যাট করবো বা সাইটিং করবো, নিউজ ফিড ঘাঁটব কিন্তু সে ৫ মিনিটটা ৩০/৪০ মিনিট হলেও কিছুই মনে হয়না।

৫. টানা ২/৩ ঘন্টা ফেসবুক চালনা আপনাকে অস্বস্তি দেয় না, বরং আনন্দই দেয়।

৬. হাঁটা,চলা, পড়াশুনা, ঘুরতে যাওয়া যে কোন কাজের মধ্যেই ফেসবুকের নোটিফিকেশন চেক করা।

৭. আপনি কি অনুভব করেন, আপনার সময় অনেক দ্রুত চলে যাচ্ছে, পড়াশুনা হচ্ছে না, আপনার প্রিয় মানুষদের( মা,বাবা,শিক্ষক, বন্ধু) সাথে কোন কাজ বা কথা বলার মাঝেও ফাক পেলে মোবাইল চেক করা।

৮. রাতে ঘুমতে যাওয়ার আগেও নিউজফিড ঘাঁটাঘাঁটি করা।

এ লক্ষণ গুলো থাকলে আপনি ‘নোমোফোবিয়া’য় আক্রান্ত।

এতে আক্রান্ত হলে যেসব ক্ষতি সাধিত হয়  তা হল,

১. পড়া মনে না থাকা

২. নিদ্রাহীনতা

৩. অলস থাকতে ভালো লাগা

৪. পরিবারের আপনজনদের সাথে খিটমিট করা বা তাদের খুব জরুরী কোন সাহায্যের সময় বিরক্তিবোধ করা

৫. ডিসিশন নিতে না পারা

৬. একা থাকতে ভালো লাগা

৭. এমন কোন কাজ করা, যা আপনার সম্মানের জন্য হানিকর

৮. গ্যাসের সমস্যা

৯. অকারণে রেগে যাওয়া

১০. চোখে ঝাপসা দেখা

ফেসবুকে আসক্তি ‘নোমোফোবিয়া’য় আক্রান্ত? সবচেয়ে ক্ষতিকারক দিকটা হলো রোগীর রোগ আক্রান্ত হওয়ার ২/৩ বছরের মধ্যে যে কোন কাজেই কনসেন্ট্রেশন লেভেল অর্ধেক হয়ে যাওয়া। কোন কিছুই একবার শুনে মনে রাখতে না পারা। আর প্রচন্ড অকর্মণ্য হওয়া। কাছের লোকজনের চাহিদা, দাবী, অসুস্থতা, তাদের কেয়ারিংয়ের বিষয়গুলোকে অসহ্য লাগা।

পরিত্রাণের উপায়:

১. ঠিক ঘুম থেকে উঠে ৩/৪ ঘন্টা এনড্রয়েড মোবাইল থেকে দূরে থাকা। ফোনটা হাতের নাগালের বাইরে রাখুন।

২. সন্ধার পর ২ ঘন্টা ফোনকে নেট কানেকশন থেকে দূরে রাখুন। বিছানায় শুয়ে নেট চালাবেন না। ঘুমানোর আধ ঘন্টা আগপর্যন্ত সময়টা মোবাইল থেকে দূরে থাকুন। আর দিনে সর্বোচ্চ ২ ঘন্টার বেশি নেট ঘাটবেন না। এই ২ ঘন্টাকে ৪ ভাগে ভাগ করে দিনের ৪ টা সময় নেটে ঢুকবেন। তবে তা যেন উপরে উল্লেখিত সময় গুলিতে না হয়।

৩. কনসেন্ট্রেশন বাড়ান। আপনার আশে পাশের কোন পাখির ডাক, বা ফ্যানের শব্দ, গাড়ির আওয়াজ খেয়াল করুন। নিজের হার্টবিট অনুভব করার চেষ্টা করুন। নিজের নিশ্বাস টা অনুভবের চেষ্টা করুন। কল্পনা করুন আপনার ফুসফুসের ওঠা নামা। দিনের মধ্যে অন্তত তিন বার এরূপ করুন।

৪. মা, বাবা বা গার্ডিয়ান যারা আছেন তাদের সাথে সমসাময়িক কিছু নিয়ে গল্প করুন। সেই সাথে এমন কোন টপিকস যা তারা পছন্দ করেন। সেই সাথে নিজের কর্মক্ষেত্র বা পড়াশুনার ব্যাপারটাও আলোচনা করুন।

৫. চিনি ছাড়া চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। সকালে ও বিকালে দুই বেলা। তিন/ চার দিন কষ্ট হলেও পরে এই চা টাই নেশা হয়ে যাবে। যা আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর ও কর্মউদ্দীপনা বাড়াবে।

আপনার চাহিদা অনুযায়ী সুষম খাবার ও পানি পান করুন।

এন টি

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে