আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > বিশ্বের সেরা ৫ দৃষ্টিনন্দন ছাদ

বিশ্বের সেরা ৫ দৃষ্টিনন্দন ছাদ

১৭ মে ২০১৭,

প্রতিচ্ছবি ডেস্ক

নাজমুন নাহার তুলি

ঘরে শুয়ে শুয়ে সাদা মেঘের ভেলা বা রামধনু দেখা খুব রোমাঞ্ছকর হবে নিশ্চয়ই। কিন্তু আফসোসের বিষয় এমন ব্যবস্থা তো আবদ্ধ ঘরে থেকে করা সম্ভব নয়। কিন্তু অপূর্ণ থাকেনা কোন কিছুই। কিছু সৃজনশীল শিল্পী ও আর্কিটেক্টরা মিলে তৈরী করলেন সুন্দর সুন্দর কিছু ডিজাইন যা থাকবে ঘরের সিলিং/ছাদে। যাতে করে খুব সুন্দর কিছুর স্বাদ চার দেয়ালের ভিতরেই পাওয়া সম্ভব। ব্যতিক্রমী, দৃষ্টিনন্দন, শিল্প আর কলার মিশ্রনে তৈরী ৫ টি অসাধারণ নকশার সিলিং এর কথকতার প্রথম পর্ব আজ।

“পৃথিবীর কিছু দুর্দান্ত , মোহনীয় নকশা দেখা যদি মিস করতে না চান তাহলে ঘাড় উঁচিয়ে উপরের দিকে তাকান”                                                                                                                                                     -জনাথন গ্রেনসি।

p03n0m5j

১। ক্যাস্টেলো ডি সামিয়ানো, লেসিও ইতালি:

ময়ুরের গায়ের বাহারী রঙের ছোঁয়া রয়েছে এই দেয়ালে। উঁচু ছাদে বাহারি নকশার আঁকিবুঁকি। প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ চোখ আটকে যেতে পারে দৃষ্টিনন্দন এই নকশায়। রঙ ও ডিজাইনের মিলিত রুপ আপনার বিষণ্ণতা কে দূর করে দিতে খুব কার্যকরী। বিশাল শুন্য ঘরের মাঝখানে উচু দেয়াল জুড়ে নানা রকমের নকশা। ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের কাছাকাছি ক্যাস্টেলো ডি সামিয়ানোর সিলিং(ঘরের ছাদ)  এর কথা বলছি।

ইতালিয়ান আর্কিটেক্ট, উদ্যানবিদ, দার্শনিক ও ইঞ্জিনিয়ার ফার্দিনান্দো ডি অ্যারাগোনার স্বতন্ত্র নকশায় জ্বলজ্বল করছে অনেক বছরের পুরোনো এই হলরুম। জ্যামিতিক ছন্দ, রঙের পরিমিত ব্যবহার, দৃষ্টিনন্দন আর্কিটেকচারাল প্ল্যান সবকিছু মিলিয়ে নয়নাভিরাম স্থাপনা এটি। প্রাচ্য ও ভূমধ্যসগারীয় এলাকার সংস্কৃতির ধারনা না নিয়েও সম্পূর্ন নিজের আইডিয়া থেকে ফার্দিনান্দো নির্মান করেছেন এটি। ২০ শতকের হোটলের এই কক্ষটি আপাতত বন্ধ আছে।

p03mt901

২। এলি ক্যাথেড্রাল, ক্যামব্রিজস্যায়ার:

মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম আকর্ষন এলি ক্যাথেড্রাল। ১৩৩৪ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন রাজ পরিবারের মিস্ত্রি উইলিয়াম হার্লি। গীর্জার মুল নকশা যেমন আকর্ষনীয় তেমনি নজরকাড়া কারুকার্যময় সিলিং। আটকোণের জ্যামিতিক নকশার মধ্যখানে গাছের গুড়ি দিয়ে নির্মিত লন্ঠন স্থাপন করেছিলেন হার্লি। আট কোনের প্রতি কোনায় যখন লন্ঠন থেকে আলো ছড়ায় তখন বিশাল এক তারার মত লাগে দেখতে। তার সাথে আরো সৌন্দর্য যোগ করেছে যীশু খ্রিষ্টের মূর্তি।

লন্ঠনটি মাটি থেকে প্রায় ৩০ ফুট উপরে। ১৯ শতকের দিকে এতে আরো কিছু নকশা যোগ করে পরিপূর্নতা আনা হয়। গীর্জায় সম্মিলিত কোরাস আর মনোরম এই পরিবেশ দুয়ে মিলে তৈরী হয় এক অপার্থিব জগত।

 

p03mt8qq

৩। সোলানা সেন্ট্রাম মেট্রো স্টেশন, স্টকহোম:

সাজানো গোছানো শপিং মল। তার পাশেই মেট্রো স্টেশন। যেন তেন স্টেশন নয়। উপরের দেয়াল জুড়ে এমন চিত্রকর্ম করা হয়েছে তাকিয়ে থাকলে মনে হয় কোন এক গুহার ভিতরে দাঁড়িয়ে আছি। চিত্রশিল্পী এন্ডোর্স এব্যার্গ মাটির খড়ির মত পাথর আর রং দিয়ে সাজিয়েছেন পুরো ছাদ। রাতের বেলা এর উজ্জ্বল লাল আলো এমনভাবে জ্বলে যেন অন্যকোন ভুবন থেকে ডাকছে অশরীরি। তবে মোটেও ভাববেন না এটা কোন ভৌতিক পরিবেশ। চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় মনে হবে আপনি এর মধ্যে ঢুকে যাচ্ছেন অথবা এর থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। কিছুটা পৌরাণিক যাদু গুহার মত। এই স্থানের আরো মূল আকর্ষণ হলো ৭০ মাইল লম্বা গণমানুষের চিত্রকল্প। তাই স্টকহোম মেট্রো কে বলা হয় “পৃথীবির সবচেয়ে দীর্ঘ আর্ট গ্যালারী”। এরকম আরো একটি স্থান হলো রাশিয়ার মস্কো মেট্রো।

 

p03mtbk8

৪। গ্রাণ্ড সেন্ট্রাল স্টেশন,নিউইয়র্ক:

রাশিচক্র চিত্রের অনন্য নিদর্শন গ্রাণ্ড সেন্ট্রাল স্টেশন। চিত্র অঙ্কনের এই ধারাটি স্টেশনকে দিয়েছিলো এক ভিন্ন্রুপ। কিন্তু ১৯৯৮ সালের আগে পর্যন্ত সিগারেটের বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে ছিলো স্টেশনের সিলিং। নজর করে কেউ উপভোগ করতোনা এই সুন্দর শিল্পকর্ম। হাজার হাজার মানুষের পদচারনায় প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকে গ্রাণ্ড সেন্ট্রাল স্টেশন। তাদের ব্যবহৃত সিগারেটের ধোঁয়া আড়াল করে রেখেছিলো চিত্রকর্মটিকে।

মনোমুগ্ধকর এই নকশা করেছিলেন ওয়ারেন, ওয়াটমোর, রিড এবং স্ট্রেন। ডিজাইনটি তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলেন ফরাসি চিত্রশিল্পী পল সিজার এবং আমেরিকার চার্লস বেসিং।

মূলত মধ্যযুগীয় জ্যোতির্বিদ্যা ও জোডিয়াক চিহ্ন কে প্রধান্য দিয়ে আঁকা হয়েছে এই সিলিং। শরৎ ও শীত মৌসুমের প্রাধান্যে সোনালি পাতার উপর রাশিচক্রের চিহ্ন গুলো অঙ্কন করা হয়েছে নীল সবুজ মিশ্রনের ক্যানভাসে। দেখলে মনে হবে রাতের প্রাচীন গ্রীস কিংবা ইতালির রাস্তায় হাটছেন আপনি। মাথার উপর জ্যোতিষ্করাজি ঝলমল করছে। পিকাসোর ছবির মত সুন্দর ও প্রশান্তির দৃশ্য।

 

p03mt99v

৫। শাহ মসজিদ, ইসফাহাম:

১৯৫৯ সালে শাহ আব্বাস যখন পারস্যের রাজধানী ইসফাহাম এ আসেন তখন তিনি একটি সুন্দর মসজিদ নির্মানের আশা ব্যক্ত করেন। তবে তখন পর্যাপ্ত নির্মাণ সামগ্রীর অভাব ছিলো বিধায় তিনি দুশিন্তায় পড়েছিলেন। তিনি ধর্মীয় ভাবধারার সমন্বয়ে সুন্দর স্থাপনা নির্মানে নামকরা লোক ছিলেন।

তখনকার যুগে ইসফাহামে শুধু পোঁড়ামাটির ইট এবং রঙ্গিন টাইলস পাওয়া যেত। যাই হোক শেষ পর্যন্ত তিনি তাই নিয়ে কাজে হাত দিলেন। শাহ মসজিদ ঢেলে সাজালেন সুন্দর সুন্দর ডিজাইন দিয়ে। ক্যালিগ্রাফ ও সুক্ষ নকশায় পারদর্শী রেজা আব্বাসীকে নিয়োগ দিলেন। নীল, হলুদ, ফিরোজা, গোলাপি এবং সবুজ রঙের টাইলস দিয়ে সাজালেন শাহ মসজিদের দেয়াল ও সিলিং। এমন নিখুঁত কারুকার্য থেকে নানা রঙের আলো ঠিকরে বেড়োয় । এধরনের শিল্পকলা প্রাচ্য সংস্কৃতির ধারক ও বটে।

 

তথ্যসূত্র বিবিসি ।

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে