আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ক্যাম্পাস > চোখ হারানো সিদ্দিকের দায় না নিলে সাত কলেজ বন্ধ

চোখ হারানো সিদ্দিকের দায় না নিলে সাত কলেজ বন্ধ

andolon

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

শাহবাগে পুলিশের গুলিতে দুই চোখ হারানো তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের চিকিৎসা ব্যয় ও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দায়ভার সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় সাতটি কলেজই বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে তারা।

শনিবার রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এ হুমকি দেয় ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল রয় ও রিফাত আহমেদ প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘আমাদের দাবি ন্যায্য ছিল। কিন্তু, ন্যায্য দাবি পূরণের পরিবর্তে পুলিশকে আমাদের উপর হামলা করার নির্দেশ দেয় ঢাবি প্রশাসন। পুলিশের গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে আমাদেরই ছোটভাই তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। যার জন্য দায়ী সরকার, পুলিশ ও ঢাবি প্রশাসন। আমরা সিদ্দিককে ফিরে পেতে চাই। আর এ জন্য যা করার সরকারকেই করতে হবে। এর অন্যথা হলে আমরা সাতটি কলেজের কয়েক লাখ ছাত্রছাত্রীরা কলেজ বন্ধ করে দেব।’

তারা আরো বলেন, ‘আমরা আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকতে চাই না। আমরা আলাদা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চাই। যদি আমাদের দাবি পূরণ করা না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পরীক্ষার সময়সূচীর দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ৫ জন ও আটক করা হয় ১২ জন শিক্ষার্থীকে। এতে পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে দুই চোখই উঠে যায় আন্দোলনে অংশ নেয়া তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানের।

এদিকে, শুক্রবার অজ্ঞাত ১২০০ ছাত্রছাত্রীকে আসামি করে দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করে শাহবাগ থানা পুলিশ। জানা গেছে, সিদ্দিক জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। সিদ্দিকের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এদিকে, সিদ্দিককে সাহায্য করতে ভাতৃপ্রতিম হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অন্যান্য কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা।

এ আর / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে