আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আইন-মানবাধিকার > খালেদার মামলার নিষ্পত্তি ৬০ দিনে

খালেদার মামলার নিষ্পত্তি ৬০ দিনে

১৭ মে, ২০১৭

303025-khaleda-zia

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার সকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলাটি বকশীবাজারের আবু আহমেদ জমাদারের বিশেষ আদালত-৩ থেকে ড. আখতারুজ্জামানের ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এ স্থানান্তরেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এতদিন পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের মাঠে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে এ মামলার বিচার চলছিল। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে মামলার বাকি শুনানি হবে ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে।
গত ১৩ এপ্রিল আদালত পরিবর্তন চেয়ে আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। পরে তা খারিজ হয়ে যায়। গত ১৫ মে ন্যায় বিচার পাওয়ার সংশয় থেকে আবারো আদালত পরিবর্তনের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্টের সংশি¬ষ্ট শাখায় আবেদন করেন তার আইনজীবী। বুধবার আদালত পরিবর্তনের আদেশ দেন হাইকোর্ট।
খালেদার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালতের প্রতি অনাস্থার কারণে জিয়া চ্যারিটেবল এতিমখানা ট্রাস্ট মামলা হাইকোর্ট স্থানান্তর করে দিয়েছে। সে হিসেবে এ মামলাটিও আর ওই আদালতে চলতে পারে না। এই যুক্তি দেখিয়ে আমরা আবেদন করেছিলাম। হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করেন।’
আর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, আইন অনুসারে মামলাটি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এর আগেও ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি একই আদালত থেকে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট। ফলে খালেদা জিয়ার বিপক্ষে বিচারের চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা দুটি মামলাই এখন একই আদালতে চলবে।
বর্তমানে জিয়ার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২৫ মে এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তৎকালীন একান্ত সচিব ও বিআইডবি¬উটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এরমধ্যে হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরের বছর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু হয়।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এরপর কয়েক দফা সময় নিলেও বাকি বক্তব্য তিনি আর উপস্থাপন করেননি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে