আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > সমাজ-সংস্কৃতির দোহাই দেবেন না: প্রিয়তি

সমাজ-সংস্কৃতির দোহাই দেবেন না: প্রিয়তি

 শরীর দেখানো সাহসিকতা নায়, জোড়াল আত্মবিশ্বাস: প্রিয়তি

প্রতিচ্ছবি বিনোদন প্রতিবেদক:

ব্যাতিক্রমধর্মী কাজেই সাচ্ছ্যন্দ বোধ করেন মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই মিস আয়ারল্যান্ড সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই প্রতিনিয়ত নিজেকে হাজির করছেন নতুন রূপে। আর এ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে আসেন তিনি। এবার নিজ শরীরে চিত্রকর্ম এঁকে আরও একবার আলোচনায় এলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই মিস আয়ারল্যান্ড।

এতোদিন যে প্রিয়তিকে নিয়ে একজন বাংলাদেশি হিসেবে যারা গর্ব করেছেন, সেই প্রিয়তিকে নিয়েই এখন বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে আন্তর্জালে, কিন্তু কেন? তার একমাত্র কারণ হলো সম্প্রতি তিনি সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে বডি পেইন্টিং করে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন। যা করতে খরচ হয়েছে ২০ লাখ টাকা। নগ্ন শরীরে চিত্রকর্ম এর আগেও তিনি আঁকিয়েছেন। তবে এবার একটু ব্যতিক্রমই হয়েছে বটে। শরীরে চিত্রকর্মের পাশাপাশি হলিউড থেকে আনা হয়েছিল জামা। বিশেষ এই ফটোশুটটি করেছেন আইরিশ সেলিব্রিটি স্থপতি আলফ্রেড কোচরেন ও তার দল। আর ছবিটি তুলেছেন নোলেন এবং এডি। বডি পেইন্টিংয়ের আর্টিস্ট ছিলেন জার্মানির বিয়াঙ্কা।

ছবি প্রকাশ করে যে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন তা কিন্তু প্রিয়তির কান পর্যন্ত গিয়েছে। আর এই ছবি প্রকাশ করে তিনি কয়েকটি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

uপ্রথম স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, আমার সব কাজের মধ্যে যেগুলো ব্যতিক্রমধর্মী কাজ আছে, তার জন্য আমি বলবো আমি সত্যি ভাগ্যবান ও সম্মানিত এবং বিধাতার কাছে কৃতজ্ঞ। কেননা, কাজগুলো এমন নয় যে, আমি চাইলাম আর আমাকে cast করলো বা কাজ করার সুযোগ পেলাম। স্বজনপ্রীতি আয়ারল্যান্ড এ চলে না। এতো আইরিশ সেলিব্রিটিদের মধ্যে আমার মতো একজন এশিয়ান মডেলকে সিলেক্ট/কাস্ট করা এবং তাদের ভিড়ে একা নিজের অবস্থান শক্ত/পোক্ত করা কোন দুধ-ভাত খাওয়া নয়। অবশ্যই ব্যতিক্রমকে ভালোবাসি। আর যা ভালোবাসি তাই করি। বাংলাদেশের মিডিয়াতে আলোচনায়/সমালোচনায় আসা না আসা নিয়ে আমার কিছু আসে যায় না, কেননা, আমি বাংলাদেশের মিডিয়ার কেউ নই, আমার কর্মস্থলও নয়। কৃতজ্ঞ বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি, যারা আমার কাজগুলকে ইতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করেছেন, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রশংসা করেছেন। দেশের বাইরে থাকার পরও দেশ ও দেশের মানুষের কাছে রেখেছেন।

বি. দ্র. যাদের কাছে আমার কাজ নোংরামি মনে হয়, simply আমার প্রোফাইল ভিজিট করা বন্ধ করে দিন। আপনাদের মন রক্ষার্থে আমার কাজ বন্ধ হবে না । End of the day, you will not gonna pay my bill.

un

আরও একটি স্ট্যাটাসে প্রিয়তি লিখেন, শরীর দেখানো আসলে কোনো সাহসিকতা নয় বরং তা জোড়াল আত্মবিশ্বাস, নিজের শরীরের প্রতি। শরীর দেখানোর মতো শরীর থাকতে হয় এবং সেই শরীর দেখার জন্য চার দেয়ালের বাইরের পৃথিবীতে দৃষ্টি ও থাকতে হয়। গর্ব ও তখন হয় যখন আত্মবিশ্বাস থাকে তার প্রধান শাখা।

২০ জুলাই বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তিনি একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে লিখেন, ধর্ম , সমাজ ও সংস্কৃতি এই তিনটার দোহাই আমাকে দিয়ে লাভ নেই, এই গুলোর দোহাই আমাকে বিচলিত করে না, কেননা, আমি যখন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পরে থাকি বা কাজ করতে পারি না তখন এই তিনটার একটিও এসে আমার বাচ্চাদের খাবার দিয়ে যায় না বা স্কুলের খরচ বা আমার বাসার বিল, কোনটাই না। সুতরাং, কেউ আমাকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল বা অপদস্ত করতে চাইলে আপনারাই হতাশ হবেন, আমাকে তিল পরিমাণ হেলাতে পারবেন না। ব্যাংক ব্যলেন্স আমার সব সময়ের মতোই শুন্য থাকে। ব্যাংক ব্যলেন্স নিয়ে তো আর আমি কবরে যাবো না। নিজের ঢোল নিজে পিটাতে হয় না, তাই শিখেছিলাম, কিন্তু মাঝে মাঝে হয়তো পিটাতে হয় সময়ের স্বার্থে। আমার মডেলিং থেকে উপার্জন করা কোনো আয় আমার বাসায় আসে না, চলে যায় বিভিন্ন চ্যারিটির কাজে। কেননা মিডিয়াতে কাজ আমার পেশা নয়, করা হয় শখে কিন্তু যখন কাজ করি তা করি আমার সর্বশক্তি দিয়ে, কিছু মানুষের উপকারের স্বার্থে। নিজের জীবন বা জীবিকার জন্য আমার ভিন্ন পেশা রয়েছে, যা আপনাদের সবারই জানা। যতদিন ফিজিক্যালি ফিট থাকবো ততদিন পর্যন্ত আমার পাইলট চাকরিও থাকবে।

untআচ্ছা, যাদের আমার কাজ নিয়ে নেতিবাচক ধারনা রয়েছে/তৈরি হয়েছে তাদেরকে বলছি, আপনি একজন পথশিশুর পড়াশুনার দায়িত্ব নিন, আমাদেরকে দেখান, যদি তখন আমাকে কিছু বলার থাকলে বলুন, আমি আপনার গালি ফ্রিতে নিয়ে নিব। নিজের সমাজের/দেশের মানুষের জন্য আগে কিছু করুন, করিয়ে দেখান, তারপর না হয় সমাজ/দেশ/ ধর্ম/সংস্কৃতি নিয়ে উত্তেজিত হওন।

বি. দ্র. আমি বাংলা এবং ইংলিশ দুইটাতেই কাঁচা, অর্থাৎ ভাষাগত দুর্বলতা আছে, কোথাও কোন ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সবার প্রতি ভালোবাসা রইলো।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ৭০০ প্রতিযোগীকে হারিয়ে ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ নির্বাচিত হন বাংলাদেশের মেয়ে মাকসুদা প্রিয়তি। একই সঙ্গে তিনি পান ‘সুপার মডেল’ ও ‘মিস ফটোজেনিক’ খেতাব। দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকাতে অনুষ্ঠিত মিজ আর্থ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত পরিচয় হিসাবে রয়েছে বিমানের প্রশিক্ষক পাইলট। মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি গত ১৪ বছর ধরে আয়ারল্যান্ডে বাস করছেন।

এসএম/এআর/এনটি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে