আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > পদ্মায় মাথা তুলেছে স্বপ্নের সেতু, ৫৭ ভাগ কাজ শেষ

পদ্মায় মাথা তুলেছে স্বপ্নের সেতু, ৫৭ ভাগ কাজ শেষ

পদ্মায় মাথা তুলেছে স্বপ্নের সেতু, ৫৭ ভাগ কাজ শেষ

আহমেদ এফ রুমী :

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে পদ্মার বুকে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। নদীর ওপর চলছে দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নপূরণের কাজ। এখন আর স্বপ্ন কিংবা কল্পনা নয়, বাস্তবায়নের পথে পদ্মা সেতু। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বহু প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর কাজ।

দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। নদীর তলদেশে কাজ চলার কারণে দীর্ঘদিন দৃষ্টির আড়ালে ছিল পদ্মা সেতু। তবে জুনের শেষদিকে পানির উপরে জেগে উঠতে শুরু করে সেতুর মূল কাঠামোর কিছু অংশ। এখন মানুষ দেখতে পাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পদ্মা সেতু পদ্মার বুক চিরে জেগে উঠছে।

padma-jazeera

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর দুই পাড় মাওয়া, জাজিরা ও শিবচরে চলছে পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞ। নদীর বুক জুড়ে ভাসছে অসংখ্য ভারী যন্ত্রপাতি ও ক্রেন। চলছে সেতুর পিলার নির্মাণের কাজ। দেশি-বিদেশি প্রায় তিন হাজার শ্রমিকের দিনরাতের অক্লান্ত পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে ১৬ কোটি বাঙালির স্বপ্নের, গর্বের পদ্মা সেতু।

padma-munshiganj

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরোপুরি শেষ হবে প্রকেল্পর কাজ। ২০১৮ সালেই পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করবে যানবাহন ও ট্রেন। এই কর্মপরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে সবকিছু। প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘রাজধানীর সাথে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে দেশের সবচে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজ। প্রকল্পটি সরাসরি তদারকি করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।’

padma4

এদিকে, মাঝ নদীতে চলছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের পদ্মা সেতুর সুপার স্ট্রাকচার নির্মাণের কাজ। নদীর তলদেশে নির্মিত পিলারের ওপর বসানো হচ্ছে তিন হাজার টন ওজনের ১৫০ মিটার দীর্ঘ ৪১টি ইস্পাতের স্প্যান। যা পানির ওপরে দৃশ্যমান পদ্মাসেতুর মূল কাঠামো। পদ্মা সেতু প্রকল্প প্রকৌশলী কৃষ্ণকান্ত সরকার প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘৪২টি মূল পিলার ছাড়াও পদ্মা নদীর দুই পাড়ে ১২টি করে ২৪টি পিলারের ওপর সবমিলিয়ে ৪১টি সুপার স্ট্রাকচার বসানো হবে। ২৫টি সুপার স্ট্রাকচার তৈরি হয়ে গেছে। বাকীগুলো তৈরি হচ্ছে চীনে। বাকি ১৬টিও দ্রুত চলে আসবে।’

padma-shivchor2

সম্প্রতি প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘২০১৮ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে আমরা পুর্ণিমার চাঁদ দেখবো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা সরকার।’

স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় সাক্ষী পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পদ্মা পাড়ের তিন জেলার অর্থনীতিতে। এই পাড়ে মুন্সিগঞ্জ আর ওই পাড়ে মাদারীপুর ও শরিয়তপুরে লাগতে শুরু করেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে প্লট পেয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দেড় হাজার পরিবার। দুই পাড়ে গড়ে উঠছে ছোট বড় বিভিন্ন শিল্প কারখানা।

 

এ আর/ডি ডি আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে