আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > বন্যার পানি কমলেও কমছেনা দুর্ভোগ

বন্যার পানি কমলেও কমছেনা দুর্ভোগ

বন্যা বগুড়া
প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

বন্যার পানি কমে গেলেও দুর্ভোগ কমেনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের। যে পরিমান ত্রাণ সহযোগিতা পেয়েছে তা দিয়ে কোন মতে খাদ্য সংকট দুর করা গেলেও বসতবাড়ি নির্মানে নেই কোন অর্থনৈতিক সহযোগিতা। বন্যা পরবর্তী রোগবালাই, সুপেয় পানির সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত সিরাজগঞ্জ, বগুড়াসহ বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ।

পানি নামতে শুরু করায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের মধ্যে দেখে দিয়েছে নানা রোগবালাই। কিন্ত গত কয়েদিন ধরে কোন আয় রোজগার না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারছেন না অনেকেই। ফলে অসহায় আর অসহায়ত্ব পিছু ছাড়ছে না বন্যাকবলিত মানুষের।

এদিকে যমুনার পানি কমে বিপদসীমার ৫৯ সে.মি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমলেও সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। জেলার ৫টি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ হাজার পরিবারের তিন লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ।

ঘরবাড়ী ছেড়ে অনেকে বাঁধে আশ্রয় নিলেও সেখানেও করুণ অবস্থা। টিনের চালা বা পলিথিন দিয়ে ঘর বানিয়ে ছাগল-গরু-হাস-মুরগী ও কুকুরের সাথে এক ঘরে রাত কাটাতে হচ্ছে। বাঁধে টিউবওয়েল না থাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় আশ্রয় নেয়া মানুষেরা বিপাকে পড়েছে।

বিশেষ করে নারীরা পড়েছে মহাবিপদে। রান্না করার খড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়া ঠিকমতো রান্নাও করতে পারছে না। আর বৃষ্টি হলে এসব অসহায় মানুষ দুর্ভোগ আরো কয়েকগুন বেড়ে যায়।

ভাঙন কবলিতদের নিজস্ব জায়গা জমি না থাকায় ওয়াপদার ঢালে ঘরবাড়ী স্তুপ করে রেছে। এ সকল মানুষ পুনর্বাসনের জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমে বর্তমানে যমুনার পানি বিপদ সীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার সাথে সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। এতে করে নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরকারী হিসেবে, বগুড়ার ৩ উপজেলার ৯৩ টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে প্রায় ১৭ হাজার ২৪৫টি পরিবারের ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে সাড়ে ৩ হাজার পরিবার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলা। বন্যা কবলিত ৩টি উপজেলায় ৫ হাজার ৮৫ হাজার হেক্টর ফসলী পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার কারণে ৯১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় সেগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে। জেলায় ৬০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারিভাবে বন্যার্তদের মাঝে ২৮৫ মেট্রিক টন চাল, তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারসহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে যে পরিমান ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে তা দিয়ে খাদ্য সংকট কেটে গেলেও থাকার জায়গা মেরামতের উপযোগী নয়। তাই এখন প্রয়োজন বন্যা দুর্গত এলাকায় বসত বাড়ি ও টিউবওয়েল নির্মানে আর্থিক সহায়তা করলে হয়তো এই দারিদ্র সীমার মধ্যে বসবাস করা মানুষদের কষ্ট কিছুটা মুছবে।

সরকার যত তারাতাড়ি সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই আশা করেন পানিতে ভেসে যাওয়া পরিবার গুলো ।

রিংকু কুন্ডু / আমজাদ হোসেন / আর এইচ /  এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে