আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ঢাকা > বন্যার পানির মাঝেই চলছে পরীক্ষা

বন্যার পানির মাঝেই চলছে পরীক্ষা

panir-moddhe-roudro

প্রতিচ্ছবি টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

বন্যার পানিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি অসহায় জীবন-যাপন করছে। তবে এর মাঝেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বন্যার পানি ঠেলে আসছেন বিদ্যালয়ে এমনকি পরীক্ষা দিচ্ছেন হাঁটু জলে।

বন্যা কবলিত এলাকায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে ও ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়াতে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

কর্মহীন হয়ে পড়েছে এ যমুনা তীরবর্তি চরাঞ্চলের মানুষ। ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ওই তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৮শতাধিক পরিবার।

অন্যদিকে পানি বাড়ায় বঙ্গবন্ধু সেতু-তারাকান্দি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকিতে পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ কয়েক হাজার পরিবার এখনও সরকারি বা বেসরকারি কোন ত্রাণ সহায়তা পায়নি।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি না হলেও উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা পুরোটাই, গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ি, চর চিতুলিয়াপাড়া, ভূঞাপুর পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবাহিত হয়ে সপ্তাহখানেক ধরে পানিবন্দি হয়ে রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলি জমি।

ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অর্জুনা, চুকাইনগর, কুঠিবয়ড়া, জগৎপুড়া, রাজাপুর, ফলদাপাড়া, রামপুর, বিহারী, বাসুদেবকোল, চন্দনী, রুলিপাড়া, গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়াসহ অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রায় ৮শতাধিক পরিবার।

নদী থেকে ২০ ফুট দুরত্বে রয়েছে কুঠিবয়ড়া বাজার ও বঙ্গবন্ধু সেতু-তারাকান্দি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। যে কোন সময় যমুনার গর্ভে চলে যেতে পারে। বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে প্লাবিত হবে ভূঞাপুর, গোপালপুর ও ঘাটাইল উপজেলা।

এ দিকে বন্যা কবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি বন্যা এলাকায়। খোঁজ নেয়নি প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা।

ঢাকা বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এ. এইচ. এম. ফখরুল ইসলাম জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় যে কোন জরুরী অবস্থা মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি আছে।

ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারমান আব্দুল হালিম এডভোকেট জানান, বন্যার্তদের ত্রাণ সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শীগ্রই ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে বর্ন্যাতদের মাঝে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মাদ আশরাফ হোসেন জানান, উপজেলায় বন্যায় ভাঙন ও প্লাবিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের ত্রাণ সহায়তার জন্য জিআর বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য প্রয়োজন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

অভিজিৎ ঘোষ / আর এইচ / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে