আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি

বন্যা

প্রতিচ্ছবি মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

গত কয়েকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। তবে কয়েক ঘন্টার ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শুক্রবার থেকে জেলার বন্যা পরিস্থিতি আবারও অবনতি হয়েছে। ভেসে উঠা বাড়িঘর রাস্তাঘাট আবারও ডুবতে শুরু করেছে। এতে করে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে এ সব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

কয়েক দিন উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জেলায় তৃতীয় দফা বন্যার কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও ফের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় রুপ নেয়ায় দূর্গত এলাকায় প্রতিদিন ভাড়ছে দূর্ভোগ। বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের ৩ লক্ষাধিক মানুষ এখনও পানিবন্দী রয়েছে। পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যা এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রুপ নিয়েছে।

বন্যা-পরিস্থিতি

সরকারি ও বেসরকারি ভাবে প্রতিদিন আশ্রয় কেন্দ্র সহ বন্যা দূর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হলে অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন ত্রাণ না পাওয়ার। আবার অনেকেই ত্রান সামগ্রী পেলেও আশ্রয় কেন্দ্রে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান। বন্যা দূর্গত এলাকায় পানিবন্দি মানুষের কাছে শুকনো খাবার সহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী ঘরে ঘরে প্রশাসন পৌছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার ৫ উপজেলায় ৩৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ৩৫০টি গ্রামের ৫৫২৬৭টি পরিবার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা ৩ লক্ষ ১০ হাজার আশি জন। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্থরের ২৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ২৮টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে ৫৩৪টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় এখনও রাস্তা ঘাট, বাড়ি-ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব সহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগব্যাধিও বাড়ছে। দেখা দিয়েছে গবাদী পশুর খাদ্য সংকট।

ভুক্তভোগীদের দাবী দীর্ঘস্থায়ী বন্যার হাত থেকে রক্ষায় সরকার স্থায়ী উদ্যোগ নেবে।

শিমুল তরফদার/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে