আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > বন্যাকবলিত এলাকায় ভাঙছে বাঁধ : আতঙ্কে নদী পাড়ের মানুষ

বন্যাকবলিত এলাকায় ভাঙছে বাঁধ : আতঙ্কে নদী পাড়ের মানুষ

pp

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবনতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির । ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের সাধারণ মানুষ । সিরাজগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন ও গাইবান্ধায় নদী ভাঙনে সব কিছু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ ।

বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার বাহুকা এলাকায় নির্মাণাধীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করেছে লোকালয়ে। ভাঙনে রতনকান্দি, ছোনগাছা বাগবাটি, খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ বন্যার আশংকার মধ্য রয়েছে।

ইতিমধ্যে ডুবে গেছে কয়েকটি গ্রাম ও ফসলি জমি। আতঙ্কিত হয়ে এসব অঞ্চলের মানুষ রাতেই বাড়িঘর সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে গেছে। আতঙ্কিত লোকজন তরিঘরি করে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে। অনেকে আবার আশ্রয় নিয়েছে বাঁধের উপর।

uu

এতে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছে এসব এলাকার মানুষজন। স্থানীয়দের অভিযোগ বাঁধ মেরামতে সঠিক সময়ে কাজ না করায় বাঁধের এমন অবস্থা হয়েছে।

তবে সকালে নদীর পানি কমাতে এবং ভাঙা অংশের জরুরি সংস্কার করায় কিছুটা পানি কমেছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম পেইঞ্জ।

এদিকে ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীর যানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান সদর সার্কেল কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। শুষ্ক মৌসুম থেকেই এই এলাকায় কয়েক দফা ভাঙন দেখা দেওয়াতে বাঁধটি ছিলো ঝুঁকির মধ্যে । বাঁধের পাশ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছিলো বিকল্প রিং বাঁধ। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে বাঁধটি।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী পাড়ের মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে । এরেণ্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be

অবিরত পানি বাড়ার কারণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ২৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে ৭০টি চরের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ। অনেক চরে বাড়িঘর অর্ধেক ডুবে যাওয়ায় সেখানকার মানুষ গবাদিপশু ও সহায় সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থান ও ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার কারণে এলাকার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদীর ভাঙনে ১৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ভাঙনের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী জানান, সরকারিভাবে এরই মধ্যে ৯০ টন চাল ও ছয় লাখ টাকা বিতরণসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ সহযোগিতা করা হয়েছে।

তবে এখনো অনেক এলাকায় ত্রাণ সহযোগিতা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রিংকু কুন্ডু /আর এইচ / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে