আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রাজশাহী > আবাসস্থল হারিয়ে বসতবাড়িতে সাপ

আবাসস্থল হারিয়ে বসতবাড়িতে সাপ

রাজশাহীতে বেড়েছে বিষধর গোখরার উপদ্রব

প্রতিচ্ছবি রাজশাহী প্রতিনিধি :

রাজশাহী অঞ্চলে বেড়েছে বিষধর গোখরা সাপ। সম্প্রতি জেলার তানোর এবং নগরীর বুধপাড়ায় মারা পড়েছে ১৫২টি গোখরা সাপ। এ খবর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে পরিবেশের জন্য সাপের আধিক্য আশির্বাদ বলে মনে করছেন প্রাণী ও পরিবেশবিদরা। সাপ না মেরে সংরক্ষণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

এদিকে কেবল সাপের উপদ্রপ নয়, এ অঞ্চলে সাপ দংশনের খবর পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদিনই। গড়ে দুজন করে সাপেকাটা রোগী আসছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। সর্বশেষ ভর্তি হয়েছেন দুজন রোগী। অধিকাংশ রোগী বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে হাসপাতালে আসছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তারা বলেন, গোখরার বিষ সরাসরি স্নায়ুকে আক্রমণ করে। ফলে ফুসফুস অবশ এবং হৃৎপিন্ড নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত। ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।

এ অঞ্চলে পাওয়া গোখরা উপমহাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ। এটি গোমা, খইয়া বা খড়মপায়া গোখরা বলেও পরিচিত। এর ইংরেজি নাম ইন্ডিয়ান কোব্রা। বৈজ্ঞানিক নাম নাজা নাজা (হধলধ হধলধ)। একটির ফণায় চশমার মতো দুটি চক্র থাকে।

দেড় মিটার দৈর্ঘ্যের গোখরা নিশাচর। এরা মানুষের বসতবাড়ির আশেপাশে, চাষের জমি ও বনাঞ্চলে বাস করে। বিশেষ করে ইঁদুর খেতে গৃহস্থের বাড়িতে যায় গোখরা। এদের খাবারের তালিকায় রয়েছে ছোট পাখি, ব্যাঙসহ অন্যান্য উভচর জীব।

দেখতে প্রায় একই রকম গোখরা গোষ্ঠীর অন্য সাপগুলো হলো- কেউটে, শঙ্খচূড়, স্পিটিং কোবরা। এরাও অত্যন্ত বিষধর। বিরক্ত না করলে এরা সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না।

গোখরা ছাড়াও সম্প্রতি বরেন্দ্র অঞ্চলে পাওয়া গেছে রাসেল ভাইপার। মারাত্মক বিষধর এ সাপ রয়েছে বিপন্ন প্রাণির তালিকায়। বর্ষায় গোখরার উপদ্রব বাড়লেও প্রায় বছর জুড়েই উপদ্রপ থাকে রাসেল ভাইপারের।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, রাজশাহীর যে দুই বাড়িতে গোখরা পাওয়া গেছে সেগুলো বেশ পুরনো মাটির বাড়ি। অন্ধকার ও মানুষের চলাফেলা নেই এমন জায়গায় ইঁদুরের গর্তে বাসা বেধে বাচ্চা ফুটিয়েছে এরা। আবাসস্থল হারিয়ে গৃহস্থের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল গোখরা। কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে সাপগুলো মেরে ফেলা হয়েছে।

পরিবেশের বাস্তুতন্ত্রে সাপের ভূমিকা ব্যাপক উল্লেখ করে এ অঞ্চলে গোখরার উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই সন্ধ্যার পর জেলার তানোর পৌর এলাকার ভদ্রখন্ড মহল্লার কৃষক আক্কাছ আলীর রান্না ঘর থেকে একে একে বেরিয়ে আসে ১২৫টি গোখরা সাপ।

এর আগের রাতে রাজশাহী নগরীর বুধপাড়া মহল্লায় গৃহকর্তা মাজদার আলীর বাড়িতে পাওয়া যায় ২৭টি গোখরা। স্থানীয়দের সহায়তায় তখনই মেরে ফেলা হয় সাপগুলোকে। এ ঘটনার পর আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন কৃষক আক্কাছ আলী। তবে আতঙ্ক নিয়েই নিজ বাড়িতে বাস করছেন মাজদার আলী।

রাশেদ রিপন/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে