আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > বন্যায় ১০ জেলার মানুষের দুর্ভোগ

বন্যায় ১০ জেলার মানুষের দুর্ভোগ

kurigram-flood-1

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক :

বন্যা পরিস্থিতির অবনতিতে পানিবন্দি হয়ে পরেছে ১০ জেলার কয়েক লাখ মানুষ। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এতে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।

সরকারি হিসাবে এই বন্যায় ১৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট। গৃহহীন হয়ে পড়েছে অনেক গ্রামবাসী।

শুকনো চিড়ে আর মুড়ি খেয়ে দিন পার করছে পানিবন্দি মানুষ। কখনো দুই থেকে ৪ দিন ধরে টানা মুড়ি খেয়ে দিনাতিপাত করছেন তারা, কখনোবা না খেয়ে।

প্রতিদিন পানি বাড়ার সাথে সাথে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের মাত্রাও বেড়ে চলেছে। বন্য দুর্গত এলাকার বেশিরভাগ মানুষের ঘরে খাবার নেই বললেই চলে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে দুর্গত এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।

bogra-flood-pic3-11-07-17

এদিকে বগুরায় ব্ন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জেলার ৯৩ টি গ্রাম ব্ন্যায় প্লাবিত হয়েছে । ১১ টি ইউনিয়নের প্রায় ১১’শ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা এবং ধুনট উপজেলার ২৫ থেকে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর ডান তীরবর্তী কামালপুর, কুতুবপুর ও চন্দনবাইশা ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় লোকজন বাঁধে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

আশ্রয় নেয়া লোকজনের অভিযোগ, খোলা আকাশের নিচে তারা গবাদিপশু আর মানুষে একসঙ্গে বসবাস করছেন। আশ্রয়শিবিরে বিরাজ করছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট; নেই পর্যাপ্ত টিউবওয়েল।
সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের কাজলা, কর্ণিবাড়ী, বোহাইল, চালুয়াবাড়ী এবং সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা ও তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতেও বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবারে সারিয়াকান্দি উপজেলার দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ১৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাঁধে আশ্রয় নেয়া তিন হাজার পরিবারের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবার মাঝে বিতরণ করেন।

kurigram-flood-situation-photo-4-08-07-17

কুড়িগ্রামের প্রায় ৪০ ইউনিয়নে মানুষ পানিবন্দী রয়েছে । বন্যার পানিতে চিলমারী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম সদর, রৌমারী, রাজিবপুরসহ জেলার সাত উপজেলার ৪০ ইউনিয়নের ৪৫০টি মতো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৩৭ হাজার পরিবারের প্রায় ২ লাখ মানুষ। ১৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, এ পর্যন্ত মাত্র চার মেট্রিক টন চাল পেয়েছি যা মাত্র ৪০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব। অথচ আমার ইউনিয়নে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন হাজারের মতো। এসব চাল নিয়ে চরে যাচ্ছি বিতরণ করতে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে জেলার ৯ উপজেলায় ৭শ ৭১ হেক্টর জমির আউশ ধান, সবজি, বীজতলা, আখ ও পাটসহ বিভিন্ন ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ও সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানিও।

জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। জেলার সবগুলো নদ-নদী পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন করে বকশীগঞ্জ উপজেলার ৪ টি ইউনিয়ন বন্যা প্লাবিত হয়েছে।

জেলার ৭টি উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলার ২২১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

image-40180

বৃহস্পতিবার সকালে যমুনা নদীর পানি ০৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই সহ জামালপুর জেলার সবগুলো শাখা নদীর পানি বেড়েই চলেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৩০ মে. টন চাল, ৩ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও আড়াই লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে এই ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল বলে অভিযোগ দুর্গতদের।

প্রতিবছরই এই জেলা গুলো ব্ন্যার পানিতে তলিয়ে যায় কিন্ত দেখা যেন কেউ নেই । জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস আর জনসাধানের সর্বনাশ সব মিলিয়ে বন্যা প্লাবিত মানুষদের দুর্ভোগ। তবে পানিবন্দী হয়ে পরলেই হাহাকারে কেদেঁ উঠে বন্যা কবলিতে স্থান গুলো । আর সরকার নির্ধারিত যে ত্রান বরাদ্দ করা হয়। তা দিয়ে সবার ঘরে খাবার পৌছে না । তাই এখন জেলগুলোর সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির জন্য নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এমটাই মনে করেন সংশ্লিস্টরা ।

আর এইচ / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে