আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শিতায় দেশ উন্নত হচ্ছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শিতায় দেশ উন্নত হচ্ছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বর্তমানে বিশ্বের ১৬২টি দেশে বাংলাদেশি কর্মী রয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শিতায় দেশ উন্নত হচ্ছে ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বিকেলে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরো বলেন, তার সরকার জনগনের কাছে দায়বদ্ধতা নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। আওয়ামী লীগের ফজিলাতুন্নেছে বাপ্পির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন তার সরকারের আমলে দেশের উন্নতির চিত্র। তিনি বলেন, ক্ষমতার প্রতি তার ব্যক্তিগত কোনো আকাঙ্খা নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ২০২১ সালের আগেই যেমন দেশ হয়েছে মধ্যম আয়ের, তেমনি ৪১ সালের আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হবে বাংলাদেশ।

বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জনগণকে এগিয়ে চলার শক্তি জোগাচ্ছে। উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় লাল-সবুজের নিশানা নিয়ে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজকের ১৬ কোটি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই ‍উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার ও রেহানার পাঁচ সন্তান প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছি। আমি ও আমার বোনের ৫টি ছেলে মেয়ে। তাদেরকে একটা বলে দিয়েছি- লেখাপড়া শিখেছ ওইটুকুই তোমাদের সম্পদ।’

‘তারাও প্রতিটি কাজে আমাদের সহায়তা করছে। কখনো বিরক্ত করে না, এই ব্যবসা দিতে হবে, সেই ব্যবসা দিতে হবে। এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। এই ধরনের বিরক্ত কখনোই তারা করেনি।’

নিজের সন্তানদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও অটিজম নিয়ে কাজ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

“দেশের উন্নয়নমুলক অনেক কাজেই তারা সাহায্য করছে। ছোট বোনের মেয়ে টিউলিপ এই নিয়ে দুবার লন্ডনে এমপি নির্বাচিত হয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “ক্ষমতা আমার কাছে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নয়। মানুষের কল্যাণের জন্য যে কোনো অবস্থা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। আমি রাষ্ট্রপতির মেয়ে ছিলোম, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ছিলাম, নিজেও তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। নিজের ভাগ্য কী করে গড়ব, সেই চিন্তা কখনও করিনি।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সরকারি দলের সদস্য মো. আয়েন উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জোট সরকারের আমলে মাত্র ৯৭ দেশে কর্মী পাঠানো হতো জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে এই সংখ্যা ১৬২ তে উন্নীত হয়েছে। নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সরকার শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে ঘোষণা করেছি। এ খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় বিদ্যমান শ্রমবাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিতে জোর দিয়েছি।

আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে (২০০৯ থেকে ২০১৪, ২০১৭ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত) ৮ বছরে মোট ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ২২৯ কর্মী বিদেশে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদে রাজশাহী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে ২৯টি শ্রম উইং প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের অক্টোবরে মরিশাসে শ্রম উইং প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তিনি বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব নিরসনের লক্ষ্যে কর্মী গ্রহণকারী দেশসমূহের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় জনশক্তি প্রেরণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জোট যেমন- জিএফএমডি, কলম্বো প্রসেস, বুদাপেস্ট প্রসেস, আবুধাবি ডায়লগসহ অন্যান্য জোটের মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকতর অধিকার ও সুরক্ষার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিলসহ ৫০টি নতুন শ্রম বাজার সম্পর্কে ‘স্টাডি’ সম্পন্ন করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশ সরকারের জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় কর্মী প্রেরণের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখন মালয়েশিয়া কর্মী গমন করছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের অবিরাম শ্রম কূটিনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে সে দেশের সরকার ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে নির্মাণ, শিল্প এবং কৃষি খাতে বাংলাদেশ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে জারিকৃত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে বাংলাদেশের বিদেশ গমনেচ্ছুক কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ায় অভিবাসনের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সৌদি আরব অধিক সংখ্যক নারী কর্মীর পাশাপাশি তাদের নিকট আত্মীয় পুরুষ কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালের ৪-৬ জুনে তার সৌদি আরব সফরকালে সৌদি বাদশার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে অধিক হারে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এর ফলে ২০১৬ সালের ১০ আগস্টে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কর্মী গ্রহণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের শ্রম কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন পাঠানোর বিষয়ে চলতি বছর মার্চে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে ৩ বছরের স্থলে ৫ বছর পর্যন্ত সে দেশে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অদক্ষ শ্রমিকের তুলনায় দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বেশি। তাই এ বিষয়টি মাথায় রেখে বিদেশ গমনেচ্ছুক কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রেডে কর্মীদের দক্ষ করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বৈদেশিক অভিবাসন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত অধিকাংশ সেবা সহজীকরণের আওতায় এনে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে বিদেশগামী কর্মীদের সময়, খরচ ও যাতায়াতের পরিমাণ অনেক হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনের সময় কর্মীদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া হয়। কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদানের সাথে একটি মেশিন রিডেবল স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হয়। কর্মীরা ভিসা অনলাইনে যাচাই করে বিএমইটির ওয়েবসাইটে অনলাইন ভিসা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মোবাইল এ্যাপস চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬টি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। ২৯টি জেলায় বিদেশগামী কর্মীদের প্রাক বহির্গমন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ই-লার্নিং পদ্ধতিতে গৃহকর্মী পেশায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ২৯টি টিটিসিতে চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মোবাইল এ্যাপস চালু করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩’ নামে একটি নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। এ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রতারণা, অপপ্রচার ইত্যাদি অপরাধের সাথে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়া ২০০৬ সালে প্রণীত বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি যুগোপযোগী করে ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি, ২০১৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার রোধে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আন্তঃমন্ত্রণালয় ভিজিলেন্স টাস্কফোর্স (ভিটিএফ) নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছর জুলাই থেকে ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য বিএমইটি কর্তৃক ‘অভিবাসী কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

এআর / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে