আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > সিলেট > মৌলভীবাজারের আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই মেলেনি ৪০ পরিবারের

মৌলভীবাজারের আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই মেলেনি ৪০ পরিবারের

pic-2

শিমুল তরফদার, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র  চালু করা হলে সেখানেও ঠাঁই মেলেনি বন্যাদুর্গত ৪০টি পরিবারের। বিদ্যালয়ে পরীক্ষার অযুহাতে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।

এমন অভিযোগ উঠেছে বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এখলাছুর রহমানের বিরুদ্ধে। অথচ গত ৬ জুুলাই থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যার পানি উঠা স্কুলগুলোর পরীক্ষার তারিখ পেছানো হয়েছিল। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এখলাছুর রহমানের এমন অমানবিক কা-ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব বাসিন্দাদের এলাকা এখনও প্লাবিত রয়েছে। স্কুল থেকে বের করে দেয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে হাকালুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ৫টি পরিবার ঠাঁই নিয়েছে স্থানীয় কানোনগো বাজারের একটি নির্মাণাধীন ভবনে। এছাড়া অন্য পরিবারগুলোর কেউ গেছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কেউবা বাড়িতে গিয়ে ঘরের মধ্যে মাচা বেঁধে বসবাস করছেন।

আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হওয়া মুর্শিবাদকুরা গ্রামের রেশমী বেগম পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন কানোনগো বাজার এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিপদে পড়িয়া আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিছলাম। স্কুলের সভাপতি এখলাছ উদ্দিন আমরারে পরীক্ষার কথা কইয়া ই-খান থাকি বার করি দিছইন। আমরা তানরে বউত রিকোয়েস্ট (অনুরোধ) করছি আরো কয়দিন থাকার লাগি। কিন্তু তাইন আমরারে যা গালাগালি করছইন। পরে আর কিতা করমু গালাগালি হুনিয়া বারই গেছি।’

বড়ময়দান গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, ‘ঘর এখনও ভাঙা। ঘরে পানি। এর লাগি আশ্রয় কেন্দ্রে গেছলাম। স্কুলের সভাপতি গালা গালি করছইন। এখন যদি তারার কথায় না বারই (বের হই) তাইলে অপমানিত অইতাম পারি। এর লাগি পরে মানসম্মানের লইয়া বারই গেছি।’

এ ব্যাপারে হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এখলাছুর রহমান বলেন, ‘আমি তাড়িয়ে দেইনি। এদেও আমি অনেক সাহায্য করছি। তারার পাশে দাঁড়িয়েছি। উপর থাকিয়া নির্দেশ এসেছে এ জন্য পরীক্ষার কথা বলে তাদের অনুরোধ করিছি বের হওয়ার জন্য।’

এছাড়া কম পরিবার থাকলেও তা অনেক বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেনন তিনি। বলেন, ‘এখানে পরিবার ছিল মাত্র ২১টি। কিন্তু সরকারিভাবে দেখানো হয়েছে ৫০টি।’

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সমীর কান্তি দেব বলেন, ‘পরীক্ষার জন্য আশ্রিত পরিবারগুলোকে জোর করে বের করার কথা নয়। আমি শুনেছি তারা নিজে থেকে চলে গেছে। জোর করে বের করে দেয়া ঠিক হয়নি। পরিবারগুলো স্বাভাবিক আশ্রয়ে না ফেরা পর্যন্ত তাদের আশ্রয় দেয়া দরকার ছিল। প্রয়োজনে পরীক্ষা কিছুদিন পরে নেয়া যেত।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জোর করে কাউকে বের করে দেয়া হয়নি। অনেকের বাড়ি ঘর থেকে পানি নেমেছে। তারপরও তারা ত্রাণ পাবার আশায় আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়তে নারাজ। বন্যার কারণে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন স্কুলে খোলা হয়েছে। আশ্রিতরা না ফিরলে পরীক্ষা নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আমাদেরকে শিক্ষার্থীদের বিষয়টিও ভাবতে হবে।’

বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্র থেকে দুর্গত পরিবারগুলোকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে আমায় কেউ জানায়নি। পরিবারগুলোর ঘরের পানি না কমা অবস্থায় বের করে দেওয়াটা অমানবিক হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

শিমুল তরফদার/ এমএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে