আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > জলজট-যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

জলজট-যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

জলজট-যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

আহমেদ এফ রুমী ও ইফতি মাহাবুব :

আষাঢ়ের শেষ সময়ে এসে সারা দেশেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে রাজধানী ঢাকায় তুলনামূলকভাবে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এতে সৃষ্ট জলজটে আজ (বুধবার) মূল সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে নাকাল রাজধানীবাসী।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে, ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকন্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বুধবার ভোর ছয়টার মধ্যে বৃষ্টি হয়েছে ৬০ মিলিমিটার। চলতি বর্ষা মৌসুমে এক দিনে রাজধানীতে এর চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়নি বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার রাতের টানা বৃষ্টিতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের উত্তর-দক্ষিণে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে বুধবার সকালে সদরঘাট, গুলিস্তান, কাকরাইল, পান্থপথ, কাওরানবাজার, মানিক মিয়া এভিনিউ, মিরপুরসহ রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, রাস্তায় আটকা পড়েছে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী ও অফিসগামী মানুষজন।

19987508_10212315604617993_1713918701_n

মোহাম্মদপুর থেকে গুলশানগামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নাবিদ শাহরিয়ার বলেন, ‘তীব্র জ্যাম আর অসহনীয় যানজটে সময়মতো অফিসে পৌঁছানো কষ্টকর। বাসে লাগছে অতিরিক্ত সময়। আর রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে বাস থেকে নেমে হেটে যাওয়াও সম্ভব না। এ কারণে গন্তব্যে যেতে সময় লাগছে প্রায় চারগুন।’

আসাদগেট মোড়ের ট্র্যাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. মমিনুল প্রতিচ্ছবিকে বলেন, সকাল থেকেই আসাদগেটে তীব্র যানজট দেখা গেছে। প্রায় কোমর সমান পানিতে যানবাহনের গতি কমার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট ও জলাবদ্ধতা কমতে থাকে।

সদরঘাট থেকে মহাখালী পর্যন্ত আড়াই ঘন্টায় এসেছেন সরকারি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান। তিনি জানান, ‘আধঘন্টার বেশি লাগার কথা নয়। কিন্তু, কাকরাইল থেকে মালিবাগ-মগবাজার পর্যন্ত আসতেই সময় লাগছে দেড় ঘন্টা। রাস্তায় প্রচুর পানি, তাই হেটে কিংবা রিকশা নিয়েও যেতে পারছি না।’

screenshot_2

এছাড়া পুরো ঢাকা জুড়েই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোড়াখুড়ির কারণে সৃষ্টি হচ্ছে খানাখন্দ। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ফলে কমে যাচ্ছে যানবাহনের গতি, বাড়ছে যানজট।

মিরপুর ১৪ এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাহী বলেন, ‘সকাল ৭টায় বনানীর উদ্দেশ্যে বাসে উঠে সকাল সাড়ে ৯টার সময়েও ক্যান্টনমেন্ট পাড় হতে পারিনি। যেখানে সময় লাগে ২০-৩০ মিনিট, কিন্তু আড়াই ঘন্টা জ্যামে বসে কাটিয়ে দিলাম। তবুও গন্তব্যে যেতে পারিনি।’

‘৪৫ মিনিটের পথ ৩ ঘন্টায়’ পৌঁছতে পারেননি মিরপুরের কালশী রোডের বাসিন্দা তানভীর আলম। তিনি জানান, ‘ফার্মগেটের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়েছি সকাল পৌনে ৯টায়। মিরপুর ১০, কাজী পাড়া, শেওড়া পাড়া, আগারগাঁও সড়কে প্রচুর পানি ও জ্যাম থাকায় বাস মিরপুর ১-শ্যামলী হয়ে ৪৫ মিনিটের পথ তিন ঘন্টায় (১২টায়) পৌছায় আসাদগেট। এরপর ফার্মগেট পৌঁছতে হয় পায়ে হেটে। এতে আরো ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়।’

খামারবাড়ি-খেজুরবাগান মোড়ে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশ মো. রুহুল আমিন প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘আমি যখন ডিউটিতে আসি, তখন রাস্তায় প্রচুর গাড়ি আর জ্যাম ছিল। তাই, প্রতি সিগনালে ১০টার বেশি গাড়ি ছাড়িনি। তবে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানজট কিছুটা কমতে শুরু করেছে।’

আই.এম / এআর / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে