আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > শিল্প-সাহিত্য > ধারাবাহিক গল্প: কণা কথন

ধারাবাহিক গল্প: কণা কথন

11193253_10153229760812208_8443415337768620114_n
মহসিনা আফরোজ ইলা

প্রথম পর্ব

কণা এবং সজিব বিয়ে করবে ঠিক করার দেড় বছর পর দুই পরিবারের সম্মতিতে শুভ কাজটি সম্পন্ন হল। বিয়ের পর কণার জায়গা হল সজীবের বড়লোক চাচার বাসার ডইংরুমে। সজীব চাচার কাছে মানুষ। তাই শর্ত ছিল বউ নিয়ে এখানেই উঠতে হবে। চাচার বারোয়ারি বাসার সব গুলো বেডরুম এঙ্গেজড। সজীব বলেছিল, কয়দিন একটু কষ্ট কর, আমি বাসা ভাড়া করেই রেখেছি। মন রক্ষার জন্য কিছুদিন থেকে আমরা চলে যাব। কণা সব রকম শর্ত মেনে নিয়েছিল। পছন্দের বিয়েতে এইটুকু ছাড় দিতেই হয়। বিয়ে উপলক্ষে কণা অফিস থেকে ছুটি পেয়েছিল সাতদিন। তিনদিন পর চাচী শাশুড়ি বললেন, বউকে শশুর বাড়ি দেখিয়ে নিয়ে আসো। বাধ্যগত ভাতিজা বউ নিয়ে রওনা দিল নাটোরের উদ্দেশ্যে। কণার মনে আছে, ও সারা রাস্তা মরার মত ঘুমিয়েছিল। বিয়ের পর প্রথম একটানা সাতঘন্টা বিশ্রাম। চাচার বাসার ড্রয়িংরুমে মশা আর গরমের কারণে রাতে ঘুম হত না। সারাদিন শাড়ি চুড়ি পরে হয় রান্না ঘরে দাঁড়িয়ে থাকতে হত না হয়ত সোফায় বসে থাকতে হত। নাটোরে গিয়ে ভালই লাগছিল। গ্রামীণ পরিবেশ, খোলামেলা জায়গা। সজীবের সুখী সুখী চেহারা দেখে ওর ভাল লাগত। রাতে খেতে বসলে শাশুড়ি খুব আদর নিয়ে বলেছিল, কণা অনেক সুন্দর হয়ে গেছো। কথাটা এখনো খুব মিষ্টি হয়ে কানে বাজে।

নাটোর থেকে ফিরে অফিস শুরু। প্রথম দুদিন কণা নাস্তা না খেয়েই বের হয়ে গেল। দুপুরে খাবার নিয়ে যেতে হত। লজ্জায় সেই কথাটাও বলতে পারেনি। নতুন বউ না খেয়ে চলে যাচ্ছে, টিফিন নিচ্ছে না এটা প্রথম খেয়াল করল বাড়ির সাহায্যকারী মেয়েটা। তৃতীয় দিন সকালে টেবিলে নাস্তা আর ছোট্ট বক্সে লাঞ্চ সাজানো দেখে কণার চোখে পানি চলে এসেছিল। জীবনে মা ছাড়া কারো কাছে কোন যত্ন আশা করেনি বলেই অবহেলা গুলো গায়ে লাগছিল না। কিন্তু একটু যত্ন পেয়েই মা এর কথা মনে পড়ে গেল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে