আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > পানির অভাবে নাকাল মিরপুরবাসী, নানা সমস্যার দোহাই ওয়াসার

পানির অভাবে নাকাল মিরপুরবাসী, নানা সমস্যার দোহাই ওয়াসার

20170510_134250

আহমেদ রুমী:

পানির তিব্র সংকটের মধ্যে জীবন পার করছেন মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের ইব্রাহিমপুর এলাকার বাসিন্দারা। এ চিত্র পুরো মিরপুর জুড়েই। প্রায় দুই মাস ধরে পর্যাপ্ত পানি না এলেও এ নিয়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ। নানা সমস্যার দোহাই দিয়ে চলছে ওয়াসা।
কতৃপক্ষের দাবি সমস্যা বিদ্যুতের। এ বিষয়ে মিরপুর ১৪-ইব্রাহিমপুর-কাফরুল এলাকার পানির নিয়ন্ত্রক ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-০৪ এর সহকারী প্রকৌশলী শওকত হোসেন বলেন, ‘মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুত লাইন নেয়ার কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘন ঘন বন্ধ রাখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমাদের যে পাম্পটা দিয়ে পানি সরবরাহ হয় সেখানে সমস্যাটা হচ্ছে।’
সরেজমিনে গোটা ইব্রাহিমপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকাতেই পানির তীব্র সংকট। ইব্রাহিমপুর এলাকার ‘আদর্শপল্লী’ আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, দেড় থেকে দুই মাস ধরে পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না তারা। কখনো দিনে একবার, কখনো আবার তাও জোটে না। ওয়াসা থেকে পানি কিনতে গেলেও পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বেশ বড় রকমের দুর্ভোগেই পড়েছেন এলাকাবাসী।
বিগত কয়েক বছরে এবারই প্রথম বড় ধরনের পানি সংকটের মুখোমুখি হওয়ার কথা জানান তারা। এলাকায় নতুন কিছু বহুতল ভবন নির্মিত হবার পর থেকেই পানির এ সমস্যা তিব্র থেকে তিব্রতর হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না।

20170510_134332
আদর্শপল্লী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সরকারী কর্মকর্তা স্থানীয় বাড়ির মালিক ফরিদ হোসেন বলেন, “এর আগে কখনো পানির জন্য এত ‘ভোগান্তি’ পোহাতে হয়নি। এবারই এত কষ্ট হচ্ছে। নতুন অ্যাপার্টমেন্টগুলো তৈরী হবার পর থেকেই আমরা পানি পাই না। মাস খানেক ধরে দেখা যেত দুদিনে একবার পানি আসছে, কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে একেবারেই পানি নেই। মসজিদে মুসল্লিরা নামায পর্যন্ত পড়তে যেতে পারে না। বাসায় পানি না থাকলে মসজিদে থাকবে কী করে? গতকাল ভোর সাড়ে ৪টায় একটু পানি এসেছে, তাও ময়লা পানি। এ পানি কি খাওয়া যায়?”
পানি সমস্যায় বাড়ির মালিকদের নিত্য কথা শুনতে হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে এমনকি অনেকেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘তারা তো টাকা দিয়ে থাকে। পানি না পেলে ভাড়া থাকবে কেন?’
মিরপুর গোয়ালবাড়ী পাম্পের অপারেটর নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘এখানে ১০ বছর ধরে এই পাম্পের অপারেটর হিসেবে কাজ করছি। এতোদিন সঠিকভাবে পানি পেয়েছি। প্রথমে প্রতি মিনিটে ৩২০০ লিটার পানি আসত। কিন্তু এখন প্রতি মিনিটে আসছে ১০০০ লিটার পানি।’
এদিকে সংশ্লিষ্ট নলকূপের পানি প্রবাহ অর্ধেকের চেয়েও বেশি কমে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছে ওয়াসার মিরপুর মডস জোন-০৪। যদিও কবে নাগাদ এর সমাধান হবে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তারা।
তিনি আরো বলেন, “ছয় মাস ধরে পাম্পের প্রোডাকশন কমছে, আর সমস্যা বাড়ছে। আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি, কিন্তু এখন আর পানি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তাই নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, যতদিন এই কূপ খনন না হবে ততদিন এ সমস্যা দূর করা সম্ভব না। তবে আমরা চেষ্টা করছি ইন্টার কানেকশনের মাধ্যমে রাতে কিছুটা পানি দেওয়ার। কিন্তু এখানে গ্রাহক বেশি, ঘনবসতি; অথচ এই পাম্পেই সবচেয়ে কম প্রোডাকশন। আবার এলাকাটা উঁচুনিচু। ফলে উপরের লোকজন পানি পাচ্ছে না, নিচের লোকজন পাচ্ছে। এছাড়া লাইন একটু দূরে গেলে পানি আর পাওয়া যাচ্ছে না। পরে এলাকার লোকজন এসে নিয়মিতই ঝামেলা করছে।”
একটিতে বেসরকারি বহুজাতিক কোম্পানীতে চাকরিরত ইমরান সিদ্দিকী নামের এক ভাড়াটিয়া বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে এই এলাকায় থাকি, কখনো এমন সমস্যা হয়নি। কিন্তু গত দুই মাস ধরে পানির ভয়াবহ সমস্যা চলছে।”
স্থানীয় বাড়ির মালিক শামছুন্নাহার বলেন, “পানি ছাড়া এলাকাটা পুরো মরুভূমি  হয়ে আছে। শবে বরাতের রাতে নামায পড়ে পানির জন্য আল্লাহ্র কাছে কান্নাকাটি করেছি। পানি ছাড়া কি চলা যায়? একবেলা না খেয়ে থাকলে সহ্য করা যায়, কিন্তু পানি ছাড়া থাকা সম্ভব না। ভাড়াটিয়ারা বলছে, চলে যাবে।”
স্থানীয় চেইনশপের স্বত্বাধিকারী ও বাড়ির মালিক সালাহউদ্দিন মিয়া জানান, পানির জন্য এলাকাবাসীর এ হাহাকার এবারই প্রথম। এ সমস্যার সমাধানে আদর্শপল্লী উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক খানসহ আমরা কয়েকজন ওয়াসায় যোগাযোগ করি। ওয়াসা থেকে জানানো হয়। মেট্রোরেল, মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন ইত্যাদি কাজ চলার কারনে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। সময় হলে লাইন খুলে দেয়া হবে।
এদিকে ভয়াবহ এ সমস্যার সমাধান করতে দিনকয়েক আগেই আদর্শপল্লী আবাসিক এলাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা যাচাই করে। সে সময় একটি বাড়ির বাইরের অংশে পুরো দেয়ালজুড়ে বড় আকারের ফাটল ধরে। এ ফাটলের কারণে বাড়িটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়লেও, এ ব্যাপারে কারও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
এ সমস্যার সমাধান সম্পর্কে জানতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে