আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > লাইফ-স্টাইল > সন্তান হয়ে উঠুক মানবিক

সন্তান হয়ে উঠুক মানবিক

13103295_10209277148666998_497451565274078548_nস্মৃতি ভদ্র: অপত্যস্নেহ আর ভালোবাসা, ওদের মুখচেয়ে আমাদের বেঁচে থাকা, একটু একটু করে নিজের প্রতিচ্ছবি ওদের কাঠামোতে, ওদের ভালোলাগা – ভালোথাকায় তৃপ্ত মন, মানুষ হিসেবে মানবিকতার চর্চায় উৎসাহিত করা, সর্বোপরি ওদের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। এই জায়গাতে অনেকের দ্বিমত থাকতেই পারে কিন্তু আমার কাছে “মা” সত্বাটাই ত্যাগের আক্ষরিক অর্থ।

আর যাদের ঘিরে আমাদের এই বেঁচে থাকা, তাদেরকে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের ধাপ অতিক্রম করতে সক্রিয় সাহায্য করা অতীব জরুরী। আজ বলব ওদের শৈশব নিয়ে। ছোট্ট শিশু একতাল কাঁদামাটি। সেই মাটি নিয়ে আপনি গড়তে পারেন মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ আবার একটু অযত্নে গড়ে তুলতে পারেন মানবিকতা বিবর্জিত শুধুই মানুষের কাঠামো! আর এক্ষেত্রে একজন মায়ের প্রত্যক্ষ ভুমিকা থাকে অনিবার্য।

আজকাল আমরা আমাদের সন্তানদের নিজের অজান্তেই মানসিক বিকাশের জায়গা অবরূদ্ধ করে, ওদের করে তুলছি যান্ত্রিক। আর এক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করে বিভিন্ন ডিভাইস। ছেলেবেলা থেকেই ওদের হাতে আইপ্যাড, ট্যাব তুলে দিয়ে আমরা ওদেরকে মানসিকভাবে অথর্ব করে তুলছি। একটি আইপ্যাড বা একটি ট্যাব বাচ্চাদের কাছে ব্যবহৃত হয় শুধুই কিছু ভিডিও দেখতে, বড়জোর গেম খেলতে। এখানে বাচ্চাদের মননশীলতার চর্চা একদম শূন্যের কোঠায়। আর মননশীল চর্চা ব্যতিত একজন শিশু কিভাবে মানবিক হয়ে উঠবে? আর সহজসাধ্য এই ভিডিও দেখা বা গেম খেলায়, যেখানে নিজের কল্পনাশক্তিটুকুও ব্যবহার করতে হয় না আস্তে আস্তে সেখানে ওরা আসক্ত হয়ে পড়ে। আর নিজের অজান্তেই ওরা হারিয়ে ফেলে ওদের সৃজনশীলতা, হয়ে ওঠে মূক আর বধিরের নামান্তর!

এবার বলি এ থেকে উত্তোরণের উপায়। আমি নিজেও ভুক্তভোগী আমার সন্তান নিয়ে। তাই নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই আমি উত্তোরণের উপায় বলছি। আইপ্যাড বা ট্যাব আসক্ত বাচ্চাকে নিরাসক্ত করা খুব কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। আর একজন মা চাইলে সব পারেন, যখন তার শ্রেষ্ঠ সম্পদ সন্তানের কথা আসে। তাই মা কেই এক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা নিতে হবে।

18700100_10212999060712473_1025976959148933571_nসৃজনশীলতা; তা হতে পারে ছবি আঁকা, গল্প বানানো, নতুন কিছু তৈরি করা। শুধু দেখতে হবে আপনার সন্তানের আগ্রহ কোনটাতে বেশী। নিয়ম করে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে বসে যান সন্তানকে নিয়ে। এরপর তার হাতে তুলে দিন অনেক কাগজ আর রংতুলি। আঁকতে বলুন ওর যা ভালো লাগে। হ্যাঁ, এক্ষেত্রে আমি যেটা করি প্রতিদিন একটা সময়ে ছেলের হাতে তুলে দেই একটি গল্পের বই। বই পড়া শেষ হলে কাগজ আর রংপেন্সিল এগিয়ে দিয়ে বলি,” যা পড়লে এতক্ষণ, এবার তা এঁকে দেখাও।” বিশ্বাস করবেন না গল্পের চরিত্র আর ঘটনা সব টা উঠে আসে কাগজে, আর রঙের স্পর্শে তা জীবন্ত। এখানে একটু খেয়াল করলে বুঝবেন বাচ্চার কল্পনাশক্তি কাজ করছে।

আমি আরেকটা কাজ করি, আর তা হলো গল্প বানানো। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে বিছানায় শুয়ে আমি আর আমার ছেলে গল্প বানাই। আমি শুরু করি এক লাইন, এরপর ওকে বলি পরের লাইন তুমি বানাও। এভাবে একটা পুরো গল্প বানিয়ে ফেলি মা আর ছেলে মিলে। আর এখানে আমার সন্তান সৃষ্টিশীলতার সুখ পেয়ে, হয়ে উঠছে আত্মবিশ্বাসী।

বই পড়তে দিন বাচ্চাদের। বিভিন্ন উৎসবে উপহার দিন বই। পড়তে পড়তে যে আত্মবিকাশ হয়, তা আর অন্যকিছুতে সম্ভব নয়। আর বই পড়া শেষে একবার জিজ্ঞাসা করুন গল্পটার মূল ভাষ্য। ওরা হাত পা নেড়ে অভিনয় করে আপনাকে বুঝিয়ে দিবে, গল্পের আঙিনাজুড়ে ওরা হেঁটে এসেছে খুশি মনে। আর এভাবেই মনকে বিকশিত করে, আস্তে আস্তে হয়ে উঠবে মানবিক।

সবশেষে বলি, উৎসাহ প্রদান করা নিয়ে। সন্তানের সব কাজের মধ্যেই খুঁজে নিন উৎসাহপ্রদানের সুযোগ। প্র‍য়োজনে সুযোগটা বানিয়ে নিন। এই উৎসাহপ্রদান ওদেরকে করবে আত্মবিশ্বাসী। আর ছোটোবেলা থেকে যে শিশু মূল্যায়িত হয়, সে জীবনের বিভিন্ন সময় অন্যকে মূল্যায়িত করে নির্দ্বীধায়।

আর যত সৃজনশীলতার চর্চা হবে, সন্তান ততই ডিভাইস বিমুখ হবে। যদিও পুরোপুরি বিমুখ করা সময়সাপেক্ষ, তবুও মানসিকভাবে মুক ও বধির হওয়া থেকে আপনি রক্ষা করতে পারবেন নিঃসন্দেহে। আর এভাবেই একতাল কাঁদামাটিকে মা আস্তে আস্তে মানবিক করে তুলতে, এক একটি ধাপ পেড়োতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে