আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ফরহাদ মজহারের নিখোঁজ রহস্যের আদ্যপান্ত

ফরহাদ মজহারের নিখোঁজ রহস্যের আদ্যপান্ত

19832431_1990700481164637_2077976376_n

রাকিব হোসেন:

রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ কবি ফরহাদ মজহারকে খুঁজতে ১৮ ঘন্টা ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত তৈরি হয় নাটকীয় এক পরিস্থিতি। মূলধারার গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বেশিরভাগটা জুড়েই ছিলেন ফরহাদ মজহার।

প্রায় সময়ই সংবাদ মাধ্যমে তার লেখা জন্ম দিয়েছে বিতর্কের। তার জীবনাচারণও বেশ আলোচিত। বোমা হামলাকারীরা সন্ত্রাসী হলে মুক্তিযোদ্ধারাও সন্ত্রাসী এরকম মন্তব্য করার স্পর্ধাও দেখিয়েছেন বির্তকিত এই লেখক-কবি ।

তবে অনেক দিন থেকেই গণমাধ্যম থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন তিনি । কিন্তু গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে আসলেন রহস্যঘেরা নিখোঁজ নাটকের শিরোনাম হয়ে।

নিখোঁজের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগর থেকে উদ্ধার করা হয় ফরহাদ মজহারকে। তবে উদ্ধারের সময় তিনি মিস্টার গফুর হয়েছিলেন। টিকিটে তার নাম দিয়েছিলেন  গফুর। এই ভাষ্য পুলিশের।

19849224_1990700477831304_555061273_n

তার নিখোঁজ নাটকটি এখনো রহস্যঘেরা। আসলে কি তিনি অপহৃত হয়েছিলেন? নাকি আত্নগোপন করেছিলেন? ঘুরেফিরে আসছে প্রশ্নটি।

সোমবার ভোরে নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায় ভোর ৫টার দিকে নিজস্ব পোশা লুঙ্গি পাঞ্জাবি আর গলায় প্যাচানো সাদা কাপড়ে শ্যামলির হক গার্ডনের বাড়ি থেকে স্বাভাবিকভাবেই বের হন তিনি।

পরে সাড়ে ৫টার দিকে তার স্ত্রীর সেলফোনে রিং দিয়ে বলেন, তিনি অপহৃত হয়েছেন। পরে তার স্বজনরা আদাবর থানাকে বিষয়টি জানায়।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নড়েচড়ে বসে। দুপুরের পর তার সেলফোন ট্রাক করে অবস্থান জানা যায় খুলনায়। সন্ধ্যা থেকেই অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় খুলনার এক খাবারের দােকানদার দাবি করেন ফরহাদ মজহার তার দোকানে বসে খেয়েছেন। এরপর রাতে যশোরের অভয়নগরে হানিফ পরিবহনের বাস থামিয়ে মিস্টার গফুর নামে টিকিট কাটা ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয়।

19692396_10213620781293406_1066625441_n

পরে তাকে আনা হয় ঢাকায়। রহসে্যর জট খুলতে করা হয় জিজ্ঞাসাবাদ। পুলিশকে তিনি জানান, বাসা থেকে ওষুধ কেনার জন্য বের হয়েছিলেন। সেসময় তাকে অপহরণ করে কয়েকজন।

মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আহসান হাবিবের খাস কামরায় জবানবন্দিও দেন তিনি। এরপর নিজ জিম্মায় তাকে জামিন দেন বিচারক। আর জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন ফরহাদ মজহার।

পুলিশ বলেছে, আদাবর থানায় ফরহাদ মজহারের পরিবারের করা অপহরণের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের পর তার ভিত্তিতেই তদন্ত চলবে। মামলাটি তদন্ত করবে গোয়েন্দা পুলিশ।

ফরহাদ মজহারের নিখোঁজ নাটকে জন্ম দিচ্ছে নানা আলোচনার। কারা তাকে তুলে নিয়েছিলো? যারা অপহরণ করেছিলো তারা কি চায়? তাকে কি আসলেই কেউ তুলে নিয়েছিলো? না কি নিজেই আত্মগোোপনে গিয়ে সরকারকে বিব্রত করতে চেয়েছিলো? এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে গোয়েন্দাদের তদন্তে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে