আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > আগামী বিশ্বের সেরা ১০ থিম পার্ক: পর্ব এক

আগামী বিশ্বের সেরা ১০ থিম পার্ক: পর্ব এক

১৩ মে ২০১১

131014075802-avatar-animal-kingdom-4-super-169

নাজমুন নাহার তুলি

পৃথিবীর প্রায় সবত্রই  ভ্রমণপিপাসু মানুষের বিচরণ। কিছু কিছু দেশ তাদের পর্যটন খাত থেকে আয় করছে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা। যেহেতু মানুষের চিত্ত বিনোদনের স্পৃহা মজ্জাগত, সে উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতা মূলকভাবে বাড়ছে নিত্যনতুন সব আইডিয়া। আর মানুষের বিনোদনের ব্যাপারকে মাথায় রেখে তৈরী হচ্ছে বিভিন্ন রকমের থিম পার্ক। সারা বিশ্বের আগামিদিনের থিম  পার্ক নিয়ে প্রতিচ্ছবির এই আয়োজনের প্রথম অংশে আজ থাকছে ৫ টি আসন্ন থিম পার্কের খবর।

১। প্যান্ডোরাঃ অ্যাভাটারের পৃথিবী, ডিজনী অ্যানিমেল কিংডম

বহুল আলোচিত এই থিম পার্কটির মূল ডিজাইনের সাথে যুক্ত আছেন বহুল আলোচিত টাইটানিক ও অ্যাভাটারের সিনেমার পরিচালক জেমস ক্যামেরুন। অ্যাভাটার সিনেমার আদলে তৈরী হচ্ছে পার্কটি।২০০৯ সালের সাড়া জাগানো এই ব্লকবাস্টার সিনেমাটির মোহাবিস্ট চাঁদ  ও নীল মানুষের পৃথিবীর, আবেশ জাগানো পরিবেশ সবকিছু  ফুটিয়ে তোলা হবে এই পার্কটিতে।

নিউ অরল্যান্ডো, ফ্লোরিডাতে ওয়াল্ট ডিজনীর অ্যানিমেল কিংডমের সাথে যুক্ত করে আরো বিস্তৃত করা লক্ষ্যে অ্যাভাটার পার্কটি প্রতিষ্টিত হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে আগামী ২৭ মে এর উদ্ভোধন  করা হবে।

141014112532-future-theme-parks-avatar-land-horizontal-large-gallery

পরিদর্শকরা বলেছেন এই থিম পার্কটি এত অসাধারন হবে যে, মানুষ বারবার শুধু মুগ্ধ হবে, এর ভিতর দিয়ে রাইডগুলো যখন যাবে তখন স্বপ্নময় একটি যাত্রা অপেক্ষা করছে দর্শনার্থীদের জন্য। আগের যেকোন থিম পার্ক থেকে এটি অনেক বেশি আকর্ষনীয় ও প্রলোভনকারী। জেমস ক্যামেরুন এর সৃষ্টির উপর খুব সহজেই ভরসা করা যায়। নতুনত্ব ও ভিন্নধারার সৃষ্টিতে তিনি সবসময়ই সচেতন। ব্যাতিক্রমী রাইড নির্মানে তিনি রোল মডেল।আজ থেকে আরো বিশ বছর পূর্বে তিনি ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে তৈরী করেছিলেন টার্মিনেটর ২, (3D) । যার আবেদন এখন পর্যন্ত অমলিন। সারা বিশ্বের মানুষ এই থিম পার্কটির সাথে বিস্ময় এর যাত্রার জন্য অপেক্ষা করে আছে অধীর আগ্রহে।

 

2২। ইউনিভার্সাল স্টুডিও বেইজিংঃ

২০০৯ সালে প্রথম এই থিম পার্কটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। দক্ষিনপূর্ব চায়নার টংঘুহু নামক স্থানে অবস্থিত এই থিম পার্ক। ২০২০ সাল নাগাদ এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

থিম পার্কের শিল্পের জন্য চায়না আজো বিশ্বের অনেক দেশ থেকে পিছিয়ে। সংখ্যায় কম না হলেও গুনগত মানের দিক থেকে ভাল মানের পার্ক দেশটিতে নেই বললেই চলে। যদিও ভাল মানের রাইড রয়েছে, তবে সেগুলো সব ব্যবহার ও রক্ষনাবেক্ষন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। নিষ্প্রান, জড় পার্কগুলির মাঝখানে নতুন আশার সঞ্চার করতে ইউনিভার্সাল স্টুডিওটি সবার আগ্রহের মূল বিষয়। সাংহাই এর মানুষজন ডিজনী ল্যান্ডকে খুব সাদরে গ্রহন করবে বলে ভাবছেন নির্মাতারা। বিশ্বমানের বিনোদনের স্বাদ পেতে তৈরী  চীনের জনগন।

 

3৩। স্টার ওয়ারস ল্যান্ড, ডিজনীঃ

১৯৭৭ সালের বিখ্যাত সিনেমা স্টার ওয়ারস  থেকে অনুপ্রানিত হয়ে এই পার্কটি

তৈরী হচ্ছে, ডিজনি ওয়ার্ল্ড এর হলিউড স্টুডিওতে। ২০১৯ সালে আত্বপ্রকাশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন আয়োজকরা।

সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সবাইকে চমকে দেয়ার উদ্দেশ্যে বড় পরিসরে আসছে স্টার ওয়ারস ল্যান্ড। অন্য যেকোন থিম পার্ক থেকে ভিন্ন এই পার্কটি থেকে মানুষ ফিরেই যাইতে চাইবেনা। প্রবেশের পর মনে হবে অন্য কোন রাজ্যে প্রবেশ করেছে সে। পুরো স্টার ওয়ারস যেন জীবন্ত হয়ে ধরা দিবে চোখের সামনে।

4৪। প্যারামাউন্ট পার্ক লন্ডনঃ

প্রায় ৩.২ বিলিয়ন ডলার ব্যায়ে ইংল্যান্ড এর সর্ববৃহত থিম পার্কটির উদ্ভোধন হতে যাচ্ছে ২০২২ সালে। কি কি নেই এখানে ? ইন্ডিয়ানা জোনস, স্টার ট্রেক, আয়রন ম্যান ইত্যাদি আরো নানান রকমের বিনোদনমুলক জিনিস দিয়ে ঠাসা এই পার্ক। নির্মাতারা বলছেন, শুধু অপেক্ষা করুন বিশাল এক চমক নিয়ে হাজির হব আমরা।

 

5

 

৫। ২০ শতকের ফক্স ওয়ার্ল্ড, মালয়শিয়াঃ

মালয়শিয়ার একমাত্র ক্যাসিনোর পাশে পাহাড়চুড়ায় অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে  নির্মিত হচ্ছে বিনোদনমূলক এই পার্ক। ফক্স স্টুডিওর বিখ্যাত চরিত্র গুলো যেমন, আইস এজ, রিও, আলিয়েন, নাইট এট দ্যা মিউজিয়াম এর দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে বানানো হচ্ছে রাইড, থাকছে নানা রকমের বিনোদের সুযোগ সুবিধা।

নিম্নমান এবং অযত্নে গড়ে ওঠা তাদের দেশীয় পার্কগুলোর করুণ অবস্থা দুরীকরনের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ। পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনাময় এই দেশকে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাবে এই বিনোদন পার্ক। আশা করা যাচ্ছে ২০১৮ সালের মধ্যেই চালু করা হবে এই পার্কটি।

দ্বিতীয় পর্ব আগামিকাল …

 

তথ্যসূত্র; সিএনএন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে