আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > হলি আর্টিজান ট্রাজেডির এক বছর: চোখের জলে নিহতদের স্মরণ

হলি আর্টিজান ট্রাজেডির এক বছর: চোখের জলে নিহতদের স্মরণ

holy

আহমেদ এফ রুমী:

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নারকীয় সন্ত্রাসী হামলার একবছর  আজ (১ জুলাই)।  গতবছর এ হামলায় নিহত হয় ইতালি, জাপান ও ভারতের ১৭ নাগরিক। এছাড়া নিহত হয় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও আরো ৪ বাংলাদেশী। নারকীয় সেই হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারানো নিরীহ মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো মানুষ উপস্থিত হন হলি আর্টিজান বেকারিতে।

বর্বরোচিত ওই জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাপান ও ইতালির প্রতিনিধি দল। এছাড়া শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

২০১৬ সালের এই দিনে রেস্তোরাঁয় ঢুকে সেখানে উপস্থিত সবাইকে জিম্মি করে ৫ জঙ্গি। এ ঘটনায় নিহত ২০ জনের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন ইতালির নাগরিক। তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন ইতালিয় ব্র‍্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।

সেদিনের সেই নারকীয় ঘটনায় নিহত ইতালিয় নাগরিকসহ সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই শনিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে হলি আর্টিজানে আসেন ইতালির লোম্বার্দি আঞ্চলিক সরকারের কাউন্সিলর মার্কো তোসসিনি’র নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।

প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর সেখানে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন তারা। প্রায় ১০ মিনিট পর তারা হলি আর্টিজান প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

এর আগে সকাল ৭টায় শ্রদ্ধা জানাতে আসেন জাপানের রাষ্ট্রদূত। সেসময় তাঁর সঙ্গে জাইকার একটি প্রতিনিধি দলও হলি আর্টিজান প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়। জাপানি রাষ্ট্রদূত পৈশাচিক ওই হামলায় নিহত ৭ জাপানি নাগরিক ও অন্যান্যদের প্রতি নিরব শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ পর চলে যান।

%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8

গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়িটির সামনে সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটি উচু বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাজনৈতিক দল, নিহতদের স্বজনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সেসময় বেদির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা।

যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে হলি আর্টিজানের অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি।

 শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

সকাল থেকেই গুলশান ও এর আশেপাশের এলাকায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা।

গতবছর এই দিনে রেস্তোরাঁয় ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে ৫ জঙ্গি। গুলি ও জবাই করে হত্যা করা হয় ১৭ বিদেশী নাগরিকসহ ২১ জনকে।

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা সবার দবি একটাই  বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের বীজ তুলে ফেলা হোক। আর যেন ফিরে না আসে দুর্বিসহ ১ জুলাইয়ের রাত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে