আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > চির বিদায় সুধীন দাশ

চির বিদায় সুধীন দাশ

বৃহস্পতিবার সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাশের শেষকৃত্য

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক :

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তার মরদেহ রাজধানীর পোস্তগোলা মহাশ্মশানের নেয়া হয়। সেখানেই সম্পন্ন হয়েছে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।

এরআগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে তার মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হলে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এসময় রাজনীতিবিদ, কবি, লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিনয় শিল্পী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ দলে দলে ফুল হাতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সকাল সাড়ে নয়টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের হিমঘর থেকে নজরুল ইন্সটিটিউটে নেয়ার পর সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাশকে শেষ শ্রদ্ধা জানান তার অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। এসময় ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাতটার দিকে অ্যাপোলো হাসপাতালের হিমঘর থেকে তার মরদেহ মিরপুরের বাসায় নেয়া হয়। সেখানে সকল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ নেয়া হয় মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে। সেখানেও তাকে অসংখ্য মানুষ শ্রদ্ধা জানান।

মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাশ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

প্রসঙ্গত, সঙ্গীতের প্রতিটি শাখায় তিনি সদর্পে বিচরণ করে নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। বাংলা গানকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে তার অবদান অসীম। তার বিশেষত্ব হচ্ছে নজরুল সঙ্গীতের আদি গ্রামোফোন রেকর্ডের বাণী ও সুর অনুসারে স্বরলিপি গ্রন্থ লেখা।

সুধীন দাশ জীবনের পুরোটাই দিয়েছেন গানের পেছনে। গান গেয়েছেন সুর করেছেন, কাজ করেছেন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে, গবেষণা তো বটেই। বাংলা গানের ধ্রæবতারা কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে শ্রোতার কাছে শুদ্ধরূপে পৌঁছে দেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি তিনিই করেছেন। ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে ২৫টি স্বরলিপি নিয়ে নজরুল সুরলিপির প্রথম খণ্ডটি প্রকাশ করে নজরুল একাডেমি। সুধীন দাশ নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে ১৬টি ও নজরুল একাডেমি থেকে ৫টিসহ মোট ২১টি খণ্ডের নজরুলের গানের স্বরলিপি গ্রন্থ বের করেছেন। লালনগীতির ক্ষেত্রেও তার অবদান সর্বজন স্বীকৃত। তিনিই প্রথম লালনগীতির স্বরলিপি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাশ। হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের সমস্যাও ছিল তার। গত সোমবার রাতে তার বেশ জ্বর আসে। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হয়। রাতে জ্বর কমেনি, গত মঙ্গলবার সকালে অবস্থার আরো অবনতি হয়। সকালে হঠাৎ? বমি করেন তিনি। এক পর্যায়ে কথা বলাই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তাকে এ্যাপেলো হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্টে রাখেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে