আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ২২ বছর কেটে গেল, পূর্বাচল নতুন শহর করতে পারল না রাজউক

২২ বছর কেটে গেল, পূর্বাচল নতুন শহর করতে পারল না রাজউক

25550_1প্রতিচ্ছবি রির্পোট

গত দুই দশক আগে সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রা’জউক) ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ গড়ার প্রকল্প হাতে নেয়। এরপর কেটে গেছে ২২টি  বছর কিন্তু কাজ এখনো শেষ হয়নি। যদিো  ২০০৫ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। এখনো শেষ হয়নি ৬০ ভাগ কজও।

তবে রাজউকের চেয়ারম্যান জানান, আগামী ২০১৮ সালের জুন মাসে পূর্বাচল নতুন শহরের মূল কাজ শেষ হবে। এরপর শুরু হবে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পনি সংযো দেওয়াসহ অন্যান্য কাজ। কাজ পুরোপুরি শেষ হতে সময় লাগবে আরো ৫ বছর।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যায়ো বেড়ছে।  শুরুতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। গত দুই দশকে তা বেড়ে হয় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। বাড়তি ব্যয়ের পুরোটাই বহন করতে হচ্ছে প্লট গ্রহীতাদের।

তবে রাজউক নির্ধারিত নতুন সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ রাজউকেরই কর্মকর্তারা।

গত বছর কয়েক মাস প্রকল্পের গাজীপুর অংশে কাজ বন্ধ ছিল। এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে এ অংশে ঢুকতে পারেনি রাজউকের লোকজন। কারণ, এলাকাবাসী চায় না সেখানে রাজউকের প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক। পরে মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করে আবার কাজ শুরু হয়েছে। যে কারণে এখানে সড়ক সংযোগসহ অনেক কাজ এখনও বাকি রয়েছে।

এদিকে, ২০১৫ সালের পহেলা ডিসেম্বর মঙ্গলবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলণে জানিয়েছিল পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।

রাজউকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় মোট ৬ হাজার ২৭৭ একর জমিতে পূর্বাচল নতুন শহর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া খিলক্ষেত এলাকার ১৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ‘কুড়িল-পূর্বাচল’ ৩০০ ফুট সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়েছে।  প্রকল্পের মোট জমির ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে আবাসন খাতে। ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাণিজ্যিক প্লট, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য ১ দশমিক ৯ শতাংশ, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ শতাংশ এবং গবেষণা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ দশমিক ৩ শতাংশ জায়গা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে সড়ক যোগাযোগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, বাণিজ্য ও সামাজিক অবকাঠামোর জন্য ৯ দশমিক ১ শতাংশ, লেক ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, বন, বাস্তু উদ্যান ও সবুজ নগরায়ণের জন্য ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং খেলাধুলার জন্য ২ দশমিক ৮ শতাংশ জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে মোট প্লটের সংখ্য ২৫ হাজার ১৬টি। এরই মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার প্লট গ্রাহককে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ব্রিজ হবে ৬২টি। এরই মধ্যে প্রায় ৪০টি ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে। ৩২০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু লেকের কাজ বাকি আছে।৪৫ কিলোমিটার লেকের মধ্যে মাত্র ৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল বাধা কী এ বিষয়ে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক উজ্জল মল্লিক জানান, ‘বিভিন্ন সময় মামলা মোকাদ্দমাই ছিল এ প্রকল্পের মূল বাধা। এলাকাবাসীর অনেক দাবি দাওয়া এখনও মিমাংসা হয়নি। এখনও সব ঝামেলা শেষ করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সুযোগ সুবিধা থাকা দরকার সেটা এখনও ঠিক হয়নি। চারটি পুলিশ লাইন হবে। এগুলো এখনও কার্যকর হয়নি। এখনও কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা যতক্ষণ পূরণ না হবে, যতই প্রকল্পের কাজ শেষ করি কোন লাভ হবে না।

এ প্রসঙ্গে রাজউকের চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০১৮ সালে জুন পর্যন্ত। তবে আরো কিছু সময় লাগবে। মূলত  জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব হয়েছে।  তারপর মামলা সংক্রান্ত অনেক জটিলতাও ছিল। মূলত গাজীপুরের অংশটি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এলাকার বাসিন্দারা এখনও বিপক্ষে রয়ে গেছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাবাদী রাজউক চেয়াম্যান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে