আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > ১৮ বছরের ‘নায়ক’ শাদাব

১৮ বছরের ‘নায়ক’ শাদাব

খুব সম্ভবত এই মুহূর্তে ক্রিকেট দুনিয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান হচ্ছে এমন দুটি দল, প্রতিনিয়ত যাদের মুডের বদল ঘটে। এই যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র এক বছর আগেই দোর্দণ্ড প্রতাপে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা দলটিকে কেমন যেন ছন্নছাড়া লাগছে এখন। কালও ছন্নছাড়া দেখাল। ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১১২ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর খেলার কী আর কিছু বাকি থাকে? বাকি থাকল, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হলো প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই। ১১৩ রানের লক্ষ্য যেখানে সহজেই পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেখানে স্কোরবোর্ডে ৪৯ রান উঠতেই ৩ উইকেট নেই তাদের। পরে শোয়েব মালিক আর বাবর আজমের ব্যাটে স্বস্তি খুঁজে নেওয়া। তবে পাকিস্তানের ৬ উইকেটের এই জয়ে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনায় কিন্তু ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ—শাদাব খান। এই শাদাবই যে শেষ পর্যন্ত সহজ এক জয়ের রাস্তা দেখিয়েছেন পাকিস্তানকে।
কালই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে নেমেছিলেন শাদাব। নেমেই বাজিমাত। নিজের প্রথম ৮ বলে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে বড় এক ধাক্কা দিয়েছিলেন ক্যারিবীয়দের। সে ধাক্কায় সামলাতে না পেরে ৪৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। তবে কার্লোস ব্রাফেট আর কাইরন পোলার্ডের ৩৪ আর ১৪ রানের দুটি ইনিংসে সংগ্রহটা ভদ্রোচিত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এর আগে এভিন লুইস ও চাদউইক ওয়ালটনের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ১০ ও ১৮ রান। শেষ দিকে জেসন হোল্ডার ১২ বলে করেন ১৪।
শাদাব তাঁর ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে ‘কৃপণ’ বোলিংয়ের রেকর্ড। পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলা এই লেগ স্পিনারকে মাঠে নামার আগেই নাকি তাঁর সতীর্থেরা সাবধান করেছিলেন। বলেছিলেন, ঘরোয়া ক্রিকেট আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এক জিনিস নয়। শাদাব সেটা আর বুঝতে পারলেন কই! কেনসিংটন ওভালে সবকিছুই যে তাঁর খুবই সোজা মনে হলো। ৪ উইকেট পেলেও পেতে পারতেন। কামরান আকমল ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে একটা সহজ ক্যাচ ফেলে তা পেতে দেননি। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ইমাদ ওয়াসিম, সোহেল তানভীর, হাসান আলী ও ওয়াহাব রিয়াজ।
১১২ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে এসেছিল ২৫ রান। ১৩ রানে আহমেদ শেহজাদ প্রথম ফেরেন। এরপর দলীয় ৪০ রানের মাথায় ২২ রান করে আউট হন কামরান আকমল। ৪৯ রানে মোহাম্মদ হাফিজ আউট হলে কিছুটা বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তবে শোয়েব মালিক আর বাবর আজমের ৪৬ রানের জুটি বিপদমুক্ত করে দলকে। বাবর ২৯ রান করে আউট হলেও শোয়েব অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে। বাবর আউট হওয়ার পর অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের সঙ্গে ২০ রানের একটা জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন শোয়েব।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা বোলার ছিলেন জেসন হোল্ডার। ২৭ রানে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট স্যামুয়েল বদ্রি ও কার্লোস ব্রাফেটের।
অভিষেকেই সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বোলিংয়ের রহস্যটা শাদাব জানিয়েছেন ম্যাচ শেষে, ‘এ বছর পাকিস্তান সুপার লিগ ভালো খেলে আমি আমার আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছি।’
শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। এবার খেলে যেতে চান নিরন্তর। দেশকে দিতে চান অনেক কিছুই, ‘আমি আশা করি আমি এই চমৎকার শুরুটাকে স্থায়ী রূপ দিতে পারব। ভবিষ্যতে পাকিস্তান ক্রিকেটে ভালো অবদান রাখতে পারব।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে